New Market Fire Salim Minakhshi

দায় না ঠেলে দেখুন এত প্রাণহানি কেন, নিউ মার্কেট অগ্নিকাণ্ডে দাবি সেলিম-মীনাক্ষীর

রাজ্য কলকাতা

ছবি: দিলীপ সেন।

দায় ঠেলাঠেলি কোনও কাজের কথা নয়। এত মৃত্যুর জন্য দায় কার, গাফিলতি কোথায় তা নির্দিষ্ট করতে হবে।
নিউ মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড ঘিরে এই দাবি তুলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।  ‘শিখা ইন’ হোটেল সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে এই দাবি তুলেছেন তিনি।
সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জিও যান এই এলাকায়। তিনি বলেছেন, মীনাক্ষী বলেন, মানুষ ভরসা করে রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। সরকার চালায় রাজনৈতিক দল। এখন কেবল মুনাফার ওপর যদি নজর থাকে, মানুষের কথা ভাবা না হয়, তা’হলে এমন ঘটবে। মানুষের প্রাণ যাবে। 
সেলিম বলেন, আগের সরকারও ঘটনার দায় তার আগের ওপর চাপাতো। মোদীও দায় নেহরুর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আসল কথা দায়িত্ব নির্দিষ্ট করা। 
সেলিম বলেন, বলেন, আগুন লাগল বলে জানা গেল দমকল মন্ত্রী রয়েছেন। দ্রুত দমকল পৌঁছালো না কেন? প্রাণ বাঁচাতে পারল না কেন? কর্পোরেশন, রাজ্য সরকার, দমকলের নজরদারি কোথায় ছিল, হোটেলের লাইসেন্স ছিল কিনা, থাকলে কিভাবে ‘রিনিউ’ করা হলো, তদন্তে তা নির্দিষ্ট করার দাবি তোলেন তিনি। 


সেলিম বলেন, স্টিফেন হাউসে আগুন লাগানোর সময় মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন সিপিআই(এম)’র লোকেরা দেশলাই নিয়ে ঘোরে। আগুন লাগিয়ে দেয়। আমরা ওরকম মিথ্যা বলতে পারব না। কিন্তু আগুন কেন লেগেছে তা ফরেনসিক তদন্ত করে জানতে হবে। আগুনে এতগুলো মৃত্যু হলো। কলকাতা কেন যেন দেশটাই জতুগৃহ হয়ে গিয়েছে। 
সেলিম বলেন, দমকলের দপ্তর তো ঘটনাস্থলের একেবারে পাশে। দমকলের ভূমিকাও দেখতে হবে। তা ছাড়া, হোটেলে কেউ থাকতে গেলে আধার কার্ড দেখাতে হয়। কিন্তু হোটেলে সুরক্ষা ব্যবস্থা আছে কিনা, জরুরি পরিস্থিতিতে বেরনোর ব্যবস্থা আছে কিনা, আগুন নেভানোর ব্যবস্থা আছে কিনা, সেগুলি দেখা হচ্ছে না কেন। এই হোটেলের লাইসেন্স কিভাবে থাকল, নাকি লাইসেন্স ছিলই না, এসব তো দেখার কথা পৌরসভার। ।
এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, এখন তো পৌরসভায় ‘ভালো তৃণমূল’ দেখা হচ্ছে। তারাতলায় গুদাম ভেঙে পড়ার পর সব নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারপর একে একে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এখানেও কি সব হোটেল বন্ধ করা হবে? মমতা একবার ফেরি দুর্ঘটনার পর ফেরি পরিষেবাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা জরুরি যে আইন অনুযায়ী কাজ হচ্ছিল কিনা। যাদের তা দেখার কথা, সেই পৌরসভা, দমকল কী করছিল। রাজ্যেরও একাধিক বিভাগ রয়েছে। দায়িত্ব পালন করলে এতগুলো মৃত্যু ঘটে না। 
দায় ঠেলাঠেলি কোনও কাজের কথা নয়। এতজনের প্রাণ গিয়েছে। তার মধ্যে বিদেশি নাগরিকরা রয়েছেন। অন্য দেশের মানুষ কী দেখছেন! ফলে দায়িত্ব নির্দিষ্ট করতে হবে। 
মীনাক্ষী বলেন, কলকাতাকে ঘিরে রাজ্যের বা দেশের কেবল নয়, বাইরের দেশের বহু মানুষ আসেন বিভিন্ন কারণে। কিন্তু কলকাতাকে ঘিরে নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি হয়েছে। আমাদের সকলের প্রথম কাজ এই ভরসা ফিরিয়ে আনা। 


মীনাক্ষী বলেন, বিধি যে ভাঙা হয়েছে তা স্পষ্ট। প্রশাসন বিধি অনুযায়ী চলেনি। রাজনৈতিক দল মাথায় হাত রেখেছে। কেন তা করেছে, তার পিছনে লাভ কার হয়েছে, কেন আজকের শাসক দল বিরোধী আসনে থাকার সময় সরব হননি?

Comments :0

Login to leave a comment