Salim on Suvendu and Maoists

জঙ্গলমহলে কিষেনজীকে দানাপানি জোগানোর দায়িত্ব কারা নিয়েছিল? কটাক্ষ সেলিমের

রাজ্য

 মাওবাদী সমর্থন নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে আক্রমণের নিশানা করা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁরই অতীত স্মরণ করিয়ে দিলেন সিপিআই(এম)’র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। শুক্রবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সেলিম বলেছেন, সিপিআই(এম)’কে খতম করতে জঙ্গলমহলে কিষেনজীকে দানাপানি জোগানোর দায়িত্ব কারা নিয়েছিল? কিষেনজীর সঙ্গে কাদের কথোপকথন হয়েছিল, কারা খুনের রাজনীতি চালিয়েছিল কিষেনজীকে এ রাজ্যে ঢুকিয়ে? হলদিয়ায় পুলিশ কর্মী সাধুচরণ চ্যাটার্জিকে কারা খুন করেছিল? আরএসএস-বিজেপি’র পূর্ণ মদত নিয়ে ক্ষমতা দখলের জন্য মমতা ব্যানার্জির পাশে থেকে শুভেন্দু অধিকারীরাই এর জন্য দায়ী। বাত নিকলেগি তো বহুৎ দূর যায়েগি। 
শুভেন্দু অধিকারী এদিনই যাদবপুরে বামপন্থী ছাত্র-ছাত্রীদের দেশদ্রোহী, রাষ্ট্রদ্রোহী বলেছেন, যাদবপুরের দেওয়ালে কেন ‘কিষেনজীকে স্যাছলুট’ লেখা তাই নিয়ে হুমকি দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গেই সাংবাদিক বৈঠকে মহম্মদ সেলিম পালটা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, যারা মেশিনগান, স্টেনগান নিয়ে খুনের রাজনীতি করেছে তারা স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন?
দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ এবং ‘রাষ্ট্রবাদ’কে মিশিয়ে দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য আরএসএস’কে দায়ী করে মহম্মদ সেলিম বলেছেন, দেশ, জাতি, রাষ্ট্র এক নয়। জাতি গঠনের প্রক্রিয়ায় বামপন্থী চেতনা গোড়া থেকেই এদেশে ভূমিকা পালন করেছে। ব্রিটিশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে। আরএসএস তখন থেকেই ব্রিটিশ রাষ্ট্রের পক্ষে ছিল, তারা ব্রিটিশদের অনুগত ছিল, নিজেদের রাষ্ট্রীয় আখ্যা দিত। আর রবীন্দ্রনাথ, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুরা ভারতের বহু ভাষা, ধর্ম, জাতির ঐক্য গঠনে ‘মহাজাতি সদন’ তৈরি করেছিলেন। 
এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ঐতিহ্যের অনুসারী বৌদ্ধিক পরিসর হিসাবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে চিহ্নিত করে সেলিম বলেছেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শিক্ষার বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী শিক্ষা আন্দোলনের প্রতিষ্ঠান হিসাবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল। শুরু থেকেই সেখানে রাষ্ট্রের একাধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা শেখানো হয়। এখনও দেশের সংবিধান মেনেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার অধিকার সেখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের রয়েছে। 
আজাদি শব্দে মুখ্যমন্ত্রীর ‘অ্যালার্জি’ সম্পর্কে সেলিম প্রশ্ন তুলেছেন, ১৮৫৭ সাল থেকে ভারতে আজাদির আওয়াজ উঠেছে। আজাদি মানে স্বাধীনতা। ক্ষুধা, বেকারি, অন্যায় অবিচারের থেকে স্বাধীনতা চাইলে তাতে কার আপত্তি?  আরএসএস-বিজেপি’র আপত্তি কীসে, ভাষা নিয়ে নাকি শব্দের অর্থ নিয়ে? সরকারি বিজ্ঞাপনেও দূষণমুক্ত পরিবেশ অর্জনের জন্য ‘সবুজ স্বাধীনতা’ লেখা হয়েছে। একই কথা অন্য কেউ, অন্য ভাষায় বললেই আপত্তি? 
সেলিম বলেন, আসলে ফ্যাসিবাদীরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির পাশাপাশি বৌদ্ধিক চিন্তার প্রতিষ্ঠানগুলিও দখল করতে চাইছে। মগজের দখলদারি নিতে দিমাগি নকশাল বলছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানকে আসলে খাটাল বানাতে চাইছে। এই জন্যই যাদবপুরে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। বিজেপি বিধায়ক তাণ্ডব চালানোর কথা বলছেন, আর বিজেপি কর্মীরা গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আগুন ছুঁড়ছে। অন্যদিকে স্কুল বাঁচানোর কথা বললে আক্রমণ করছে। এমন ‘দেশপ্রেমী’রা থাকলে দেশের সর্বনাশের জন্য ‘দেশদ্রোহী’র দরকার পড়ে না। 
যাদবপুরে এদিন শুভেন্দু অধিকারীর কর্মসূচি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেলিম বলেছেন, উনি হয়ত বিশ্ববিদ্যালয় নয় যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডের জমি দেখতে গিয়েছিলেন। উনি পরিবহণ মন্ত্রী থাকাকালীনই মমতা সরকার কলকাতার ট্রামের জমি, সরকারি পরিবহণের জমি বেসরকারি হাতে বেচে দিয়েছিল। 
কলকাতা কর্পোরেশনের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ডিলিমিটেশনের নামে আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। যারা হাওড়া, কলকাতা চেনে না, তাঁরা মানচিত্রে আঁকিবুকি কেটে ডিলিমিটেশন করছেন, ডিলিমিটেশনের কমিটি কোথায়? কেন সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে আগে সবার মতামত নেওয়া হয়নি? পৌরসভা পঞ্চায়েত আমলাদের দিয়ে চালানোর জন্য নয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্বশাসন দেওয়া হয়েছিল সংবিধানে। এখন সরকার প্রশাসক দিয়ে চালাতে চাইছে। 
সারা দেশের সঙ্গে এ রাজ্যেও কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ ফ্যাসিবাদী আক্রমণ চালানোর জন্য বিজেপি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সেলিম বলেছেন, মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলে, গরিব ছাত্র যুব মহিলা সবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে একশো দিনের উদ্‌যাপন করছে! বামপন্থীরা এর বিরুদ্ধে বৃহত্তর নাগরিক ঐক্য গড়ে তুলে প্রতিরোধের আন্দোলন করবে। সাম্প্রদায়িকতা, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, জাত বৈষম্যের বিরুদ্ধে যারাই আছেন তাঁদের সবাইকে নিয়ে আমরা নাগরিক কেন্দ্রিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইছি।

Comments :0

Login to leave a comment