Landslide

দার্জিলিঙে ধস, ভাঙল তাকদা গ্রামীণ হাসপাতালের একাংশ, সিকিমে ক্ষতিগ্রস্ত রিম্বি গ্রাম

রাজ্য

ভেঙে পড়া তাকদা গ্রামীণ হাসপাতালের একাংশ।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাষ ছিলো ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিতে ভাসবে পাহাড় সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি। সেই পূর্বাভাষ মেনেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যের পর থেকে অবিরাম বৃষ্টি শুরু হয় দার্জিলিঙ পাহাড় সহ পাহাড় লাগোয়া সমতলের শিলিগুড়িতে। মারাত্মক বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলের জনজীবন এককথায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একরাতের বৃষ্টিতে দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু জলের তোড়ে উড়ে গেছে। আবার দার্জিলিঙের অদূরে তাকদা গ্রামীণ হাসপাতাল পাহাড়ি ধস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, শুক্রবার ভোররাতে দার্জিলিঙের একাধিক জায়গায় ছোট বড় ধস নামার খবর মিলেছে। গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী সড়কেও ধস নেমেছে। লেবং কার্ট রোডে ধস নেমেছে। যদিও সিভিল ডিফেন্স এবং সদর ট্রাফিল পুলিশের তৎপরতায় রাস্তা পরিষ্কার করা হয়। ওই রাস্তায় যান চালাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কার্শিয়াঙ ব্লকের বাগওড়া—কালিঝোরা রোডে ৭২ধূরা এলাকায় ধস নেমে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক দূর্যোগকে উপেক্ষা করে পূর্ত দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করা হয়। রাস্তাটি সচল রয়েছে। রাম্বিঝোরা ও লাবারবোটেই এলাকাতেও ছোটবড় ধস নেমেছে। 
অনবরত বৃষ্টি হয়েই চলেছে দার্জিলিঙ পাহাড়ে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে গিয়ে শুক্রবার ভোর প্রায় সাড়ে তিনটা নাগাদ ধস নামে দার্জিলিঙ শহর থেকে প্রায় ২৮কিমি রঙলি রঙলিওট ব্লকের মূল সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র তাকদা গ্রামীণ হাসপাতালে। পাহাড়ের গা বেয়ে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসা ধসে হাসপাতাল ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাকদা ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতাল। হাসপাতালের একাংশ ভেঙে পড়েছে। ঘটনার পর ছয় জন রোগী আটকে পড়েন। একজন কেয়ারটেকার আহত হয়েছেন। যদিও আহত রোগীর আঘাত গুরুতর নয় বলে বলে জানা গেছে। দার্জিলিঙের রঙলি রঙলিওট ব্লকের হাজার হাজার পরিবারের একমাত্র ভরসা তাকদা ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতাল। ঘটনার আকস্মিকতায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় উদ্ধারকারী দল। শুক্রবার সকালে ব্যাপক বৃষ্টিতে তাকদা গ্রামীণ হাসপাতালে ভূমিধস নামে। ভূমিধসে হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান একজন কেয়ারটেকার। উদ্ধারকারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে দার্জিলিঙ জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। বাকি পাঁচজন সুস্থ অবস্থাতেই বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাকদা গ্রামীন হাসপাতলের একাংশ ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে দার্জিলিঙের জেলা শাসক জানিয়েছেন, নিরাপত্তার প্রশ্নে তাকদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগীদের দার্জিলিঙ জেলা হাসপাতালে দ্রুত স্থানান্তরিত করা হয়েছে। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই হাসপাতালের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামতির কাজ শুরু করেছেন। পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে পাহাড়ের দূর্যোগপূর্ন এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। 


ধসের জেরে রিম্বি গ্রামে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র।

প্রবল বর্ষণের কারণে তিস্তা নদী খরস্রোতা হয়ে উঠেছে। তিস্তা নদীতে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এক নাগাড়ে ভারি বর্ষণের দরুন ফের তলিয়ে গেলো দুধিয়ার অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতু। বন্ধ ভারি যান চলাচল। শিলিগুড়ি মিরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ১৩ নম্বর রাজ্য সড়কের ওপর বালাসন নদী পাড়াপাড়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন এই অস্থায়ী সেতুটি। বৃহস্পতিবার রাতে এক নাগাড়ে বৃষ্টির কারণে বালাসন নদীতে ব্যাপক জলস্ফীতি ঘটে। জলের তোড়ে ভেসে যায় অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতুটি। গত এক মাসে তিনবার ক্ষতিগ্রস্ত হলো এই অস্থায়ী সেতুটি। যদিও সেনাবাহিনী তৈরী ব্রেইলি সেতু দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পুরোপুরিভাবে বন্ধ রয়েছে পন্যবাহী গাড়ির চলাচল। 
দুধিয়ার এই সেতুটি পাহাড়ে পন্য পরিবহণের ক্ষেত্রে একমাত্র ভরসা। স্বাভাবিকভাবেই পাহাড়বাসীরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। 
টানা বৃষ্টিতে ধস নেমেছে পশ্চিম সিকিমেও। পশ্চিম সিকিমের ইয়ুকসোম—তাশিডিং বিধানসভা এলাকার রিম্বি গ্রামে ধস নামে। ধসের মাটির নীচে চাপা পড়েছে একাধিক বাড়ি ঘর ও সরকারি আবাসন। যদিও হতাহতের খবর নেই। পাহাড়ের গা বেয়ে জলের স্রোতের সাথে কাদা মাটি পাথর অবিরাম নীচের দিকে গড়িয়ে পড়ছে। উদ্বেগ প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন রিম্বির মানুষের এই কঠিন সময়ে সরকার দৃঢ়ভাবে পাশে রয়েছে। যেভাবে একনাগাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে যে কোন সময় আরে বড় ধরনের ধস নেমে পরিস্থিতি জটিল হবার আশঙ্কা রয়েছে।

সিকিমে ভয়াবহ ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রিম্বি গ্রাম।

Comments :0

Login to leave a comment