Suvendu Adhikari

ধর্মতলায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্য কলকাতা

দিল্লির যন্তর মন্তর’এর বিক্ষোভ আন্দোলনের রেশ শুক্রবার আছড়ে পড়ে কলকাতা শহরে। এসএফআই সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের শুক্রবারের মিছিল নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন,‘‘‘আমার ওপর ছেড়ে দিন। সবে তো ১০ সপ্তাহ। বাংলার মাটি থেকে ‘অ্যান্টি ন্যাশানাল’ শক্তিকে উপড়ে ফেলে দেওয়ার কাজ শুভেন্দু অধিকারী করবে।’’  ধর্মতলায় প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শনিবার কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইন  প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি জানান হেয়ার স্ট্রিট ও এন্টালি থানায় মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে ৭০ জনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাঁদের কেউই ছাত্র বা সিজেপি’র সদস্য নন। এর পিছনে বামপন্থীরা ছিল বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনায় মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো রাজ্যে সদ্য পাস হওয়া গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর হুমকি দিয়ে বলেন  দোষীদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা ‘তিন পুরুষ মনে রাখবে’।’
শনিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় দুর্নীতি ও নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ধর্মতলায় হওয়া মিছিলে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়। তাঁর অভিযোগ, ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছানোর পর পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো ও জলের বোতল ছোড়া হয়। আক্রান্ত হন সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিকরাও। মুখ্যমন্ত্রী জানান, হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছয়টি এবং এন্টালি থানায় একটি— মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। বেআইনি জমায়েত, হিংসা, সরকারি কাজে বাধা, উস্কানি এবং অন্যান্য ফৌজদারি ধারার পাশাপাশি নতুন গুন্ডাদমন আইনও যুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার সাংবাদিক নিগ্রহের তীর্র নিন্দা করেছেন ছাত্র নেতৃত্ব। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন বিজেপি আরএসএস পরিকল্পিতভাবে কয়েকজনকে পাঠিয়ে এই আন্দোলন বানচাল করার চেষ্টা করেছিল। তারাই কয়েকজন সাংবাদিক ও ছাত্রছাত্রীকে আহত হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলছি সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় বাম ছাত্র সংগঠন সমূহ তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। রাতে হাসপাতালে সাংবাদিকদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন তাঁরা।
পাশাপাশি তারা জানিয়েছেন, নিগৃহীত সাংবাদিকদের পাশে যদি তাদের প্রতিষ্ঠান না দাঁড়ায় তবে ছাত্র সংগঠন গুলি দাঁড়াবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, পাশাপাশি  কয়েকজন ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের পাশেও আমার রয়েছি।
এদিন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শুক্রবার দুপুর ২টো নাগাদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন—যেমন এআইডিএসও, সিপিআই(এ)-এল ডিওয়াইএফআই, পিডিএসএফ, এআইএসএ, এএফএসএ, ডিএসএফ, আইএসইউ, এপিডিআর ইত্যাদি সংঘঠনের ব্যানারসহ এক বিশাল জনসমাগম পুলিশ কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই ডোরিনা ক্রসিং-এ (জওহরলাল নেহরু রোড ও রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থল) বেআইনিভাবে সমবেত হয়। তাদের সাথে যানবাহন ছিল এবং তারা উচ্চস্বরে মাইক ব্যবহার করছিল। তারা পুরো ডোরিনা ক্রসিং এলাকা দখল করে নেওয়ার জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছিল। ক্রমাগত উসকানিতে জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং পুরো সমাবেশটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও বিশৃঙ্খল রূপ নেয়। পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমের মাধ্যমে এই সমাবেশকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। তাদের বারবার ওই ঘটনাস্থল ছাড়তে বলা হলেও এবং শান্তি বজায় রাখতে বলা হলেও কোনো কাজ হয়নি। জনতা পুলিশ, সাংবাদিক ও পথচারীদের লক্ষ্য করে জলের বোতল, জুতো, লাঠি ও পাথর ছুঁড়তে শুরু করে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও অন্যদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহত হন। সংখ্যায় অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও এবং তারা পুলিশকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করলেও, পুলিশ অত্যন্ত সংযত আচরণ প্রদর্শন করে এবং তাদের একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। স্বাভাবিক যান চলাচল ও জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে তারা ওই স্থান ত্যাগ করে। অজ্ঞাতনামা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানার মামলা নং ১৫২(তারিখ ২৪.০৭.২০২৪),  ধারা ১৮৯(২)/ ১৮৯(৪)/ ১৮৯(৩)/ ১৯১(২)/ ১৯০/ ১২১(১)/ ১৩২/২৮৫/৩৫২/২২৩/৩(৫)/৩(৬) বিএনএস’র অধীনে একটি স্বতঃপ্রণোদিত  মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান ও অন্যান্য তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বেআইনি জমায়েত, সরকারি কাজে বাধা, হামলা, রাস্তা অবরোধ, শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে উস্কানি এবং সরকারি নির্দেশ অমান্য-সহ বিএনএস’র একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। পাঁচটি পৃথক মামলায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পাঁচ সাংবাদিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সোভনদেব চট্টপাধ্যায় বিধান সভায় বলেন, ‘‘যাদের বিরুদ্ধে এই গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ করছেন সেই আন্দোলনকারীরা নিরস্ত্র ছিলেন। আরও অনেক কেস আছে সেগুলি দিন কেন গুন্ডা দমন আইন।’’

Comments :0

Login to leave a comment