নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর অপমানের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সোচ্চার হল ছাত্রছাত্রীরা। শুক্রবার এসএফআই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা’র ডাকে বারুইপুর পদ্মপুকুর মোড় থেকে রেলগেট পর্যন্ত আজাদী ,মিছিল হয়। মিছিল শেষে বিজেপি’র রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের কুশপুতুল পোড়ানো হয়।
নেতাজীকে অবমাননা করায় সাংসদ নগেন্দ্র রায় ও বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করার দাবিতে শ্লোগান ওঠে। এছাড়াও নিউ আলিপুরে নেতাজী মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত দুস্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয় ছাত্রছাত্রীরা।
মিছিল শেষে এসএফআই রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্যী, রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে, সংগঠনের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি ঋজুরেখ দাশগুপ্ত, সম্পাদক অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী বক্তব্য রাখেন। বারুইপুর রেলগেটের কাছে রাস্তা অবরোধ করে নগেন্দ্র রায়’র কুশপুতুল পোড়ানো হয়। প্রায় আধ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকে বারুইপুরের কুলপি রোড।
দেবাঞ্জন দে বলেন, "ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে বেইমানি করেছে আরএসএস, বিজেপি। তাদের বিরুদ্ধে এসএফআই’র লড়াই চলবে। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে লড়াই হবে। দেশ বাঁচানোর লড়াই, ক্যাম্পাস বাঁচানোর লড়াই, দেশের ধর্মনিরপেক্ষতাকে আমাদের বাঁচাতে হবে।"
নেতাজী অবমাননার উল্লেখ করে তিনি বলেন, "রাজ্যের মাটিতে নেতাজীকে অপমান করা হচ্ছে। বাংলার প্রতিনিধি হয়ে বসে থাকে। সুযোগ সুবিধা পায়। নেতাজীর নামে যা খুশি বলবে এটা বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। অনন্ত মহারাজ থেকে শমীক ভট্টাচার্য সকলকে গ্রেপ্তার করতে হবে। রাজ্যসভার সাংসদ পদ কেড়ে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, "নেতাজী আমাদের হৃদয়ে, রক্তে, শিরা উপশিরায় আছেন। নেতাজীর উপর পুরনো রাগ আরএসএস, বিজেপির। নেতাজীকে সিলেবাস থেকে উড়িয়ে দিতে চাইছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই করতে হবে। আরএসএস, বিজেপি দেশ বিরোধী, ভারত বিরোধী, দেশদ্রোহী। যারা নেতাজীকে অপমান করে তারা দেশদ্রোহী। আজকে নয়া আজাদীর লড়াই চলবে। আমাদের নেতা নেতাজী।"
প্রণয় কার্য্যী বলেন, "স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নায়ক নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস। মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তার প্রতিবাদে রাজ্যের জেলায় জেলায় আজাদী রালি সংগঠিত হচ্ছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি গুন্ডা বলে আখ্যা দিচ্ছে। নেতাজী মূর্তি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। অনন্ত মহারাজের দায় বিজেপিকে নিতে হবে। আসাম থেকে তাকে কোচবিহারে নিয়ে এসে বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ করেছে। ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসকে বিকৃতি করছে। এর বিরুদ্ধে ছাত্র, অভিভাবক, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।"
Comments :0