ধারাবাহিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি লৌহ ইস্পাতের শ্রমিকরা বেতনচুক্তি আদায় করলেন। শনিবার কলকাতায় নব মহাকরণ ভবনে শ্রম মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের উপস্থিতিতে ত্রিপাক্ষিক বেতনচুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। রাজ্যের মোট পাঁচটি জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি লৌহ ইস্পাতের কারখানা। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন এমন কারখানাগুলিতে। চুক্তির মেয়াদ তিন বছরের। এদিন বেতনচুক্তির আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সিআইটিইউ নেতা উমাপদ গোপ, রুনু দত্ত, তাপস কবি, উত্তম শ্যাম, বাণেশ্বর গুপ্ত, অমিত সরকার। ছিলেন আইএনটিইউসি এবং বিএমএস’র প্রতিনিধিরা।
বেতনচুক্তির জন্য সিআইটিইউ দাবিসনদ পেশ করে কারখানার গেটে ধারাবাহিক লড়াই করেছে। রিজিওনাল শ্রম কমিশনারের দপ্তরে দাবি জানিয়েছে। রাজ্যের শ্রম মন্ত্রীর কাছেও দাবি জানান হয়েছিল। নতুন বেতনচুক্তি অনুযায়ী চালু মূল বেতনের ওপর ১১০০ টাকা যুক্ত হলো। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় ইনক্রিমেন্ট আদায় হয়েছে। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত দৈনিক ১১ টাকা বা মাসিক ২৮৬ টাকা ইনক্রিমেন্ট আদায় হয়েছে দ্বিতীয় বছর থেকে। তৃতীয় বছর থেকে ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত দৈনিক ১৩ টাকা বা মাসিক ৩৩৮ টাকা ইনক্রিমেন্ট আদায় হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি লৌহ ইস্পাতে অনেক কারখানায় শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি পান না। কোথাও ২৮০ কোথাও ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি ছিল। এবার ন্যূনতম মজুরি হলো ৪০৬ টাকা। কেন্দ্রীয় সরকার ন্যূনতম মজুরি হার বাড়ালে সেই হার প্রয়োগ করা হবে।
এই চুক্তি অনুযায়ী, সমস্ত শ্রমিকদের ইএসআই, ইপিএফ’র আওতায় আনতে হবে। অবসরকালীন সুবিধা হিসাবে গ্র্যাচুইটি ছিল না শ্রমিকদের। সব শ্রমিককে পেমেন্ট অব গ্র্যাচুইটি অ্যাক্ট’১৯৭২’র আওতায় আনতে হবে। শ্রমিক সংগঠনগুলি হাউস রেন্ট, হিট অ্যালাউন্স, দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দাবি জানিয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ ওয়ার্কমেন্স হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স’ ১৯৭৪ প্রযোজ্য হয়েছে। এবার থেকে ছুটির টাকা দেওয়ার চুক্তি হয়েছে। চলতি জুলাই মাস থেকেই বেতনচুক্তি কার্যকর করতে হবে। ১৫টি কিস্তিতে বকেয়া মেটাতে হবে। আগস্ট মাস থেকে কিস্তি চালু হবে। স্থায়ী, চুক্তিবদ্ধ, ঠিকা শ্রমিকদের জন্য এই চুক্তি প্রয়োগ করা হবে।
Wage Agreement Steel Workers
ক্ষুদ্র-মাঝারি লৌহ ইস্পাত শিল্পে বেতনচুক্তি আদায়
ছবি প্রতীকী।
×
Comments :0