মীর আফরোজ জামান: ঢাকা
মঙ্গলবার বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন তারেক রহমান। রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান। স্থানীয় সময় এদিন বিকেল ৪টে নাগাদ শুরু হওয়া শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারা। ছিলেন বাংলাদেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, বিচারপতি, কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক আধিকারিক সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। শপথ গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাক্ষর শেষে। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। রাষ্ট্রপতি নিজেই তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ পাঠ করা ২৫ জন হলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, আবু জাফর মহম্মদ. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আফরোজা খানম রিতা, মহম্মদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মহম্মদ আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আনম এহসানুল হক মিলন, সরদার মহম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম, শেখ রবিউল আলম, মহম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান।
এদিন কে কোন মন্ত্রক পাচ্ছেন, তার একটি তালিকা দিয়েছে বিএনপি। তালিকায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রকের দায়িত্ব পাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পাচ্ছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রক পাচ্ছেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রক পাচ্ছেন আবু জাফর মহম্মদ জাহিদ হোসেন। বিদেশ মন্ত্রকের দায়িত্ব পাচ্ছেন খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে জানা গেছে। এদিন তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নিয়েছেন। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রকের দায়িত্ব পাচ্ছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনেক নতুন মুখ রয়েছে এবারের মন্ত্রিসভায়। তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হচ্ছেন। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রকের দায়ীত্বে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আব্দুল আউয়াল মিন্টু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রকে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। ভূমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের দায়ীত্বে যথাক্রমে মিজানুর রহমান মিনু ও নিতাই রায় চৌধুরী। আমন এহসানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রক। সরদার মহম্মদ সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। ফকির মাহবুব আনাম ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক। শেখ রবিউল আলম সড়ক পরিবহন, সেতু মন্ত্রক, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রক। আরিফুল হক চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রক। জহির উদ্দিন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী। মহম্মদ আমিন উর রশিদ কৃষি মন্ত্রক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রক এবং খাদ্য মন্ত্রক। আফরোজা খানম বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন। মহম্মদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জল সম্পদ মন্ত্রকের দায়িত্ব পাচ্ছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী হচ্ছেন আসাদুল হাবিব দুলু। আইন, ও সংসদ মন্ত্রী হচ্ছেন মহম্মদ আসাদুজ্জামান। গৃহ ও গণপূর্ত দপ্তরের দায়িত্ব পাচ্ছেন জাকারিয়া তাহের। পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রকের দায়িত্বে দীপেন দেওয়ান। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল বিএনপি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জিতে ২০ বছর পর ফের সরকার গঠন করল বিএনপি।
Comments :0