রাজ্য বাজেটে ঘোষিত ‘যুবসাথী’ প্রকল্পকে ঘিরে রবিবার ছুটির দিনেও ব্লক দপ্তরগুলিতে ভিড়। কিন্তু সেই ভিড় কোনো উন্নয়নের উচ্ছ্বাস নয়, বরং রাজ্যের গভীর কর্মসংস্থান সঙ্কটের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের জন্য মাসে ১৫০০ টাকার ভাতা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বহু উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। কলকাতা থেকে ময়নাগুড়ি— সর্বত্র সরকারি ক্যাম্পগুলিতে দীর্ঘ লাইন। লাইনে দাঁড়ানোদের মধ্যে রয়েছেন এমএ, এমএসসি, এমনকি বিটেক ডিগ্রিধারীরাও। কারও চোখে নেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন, বরং অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট। এক কর্মপ্রার্থী দীপাঞ্জন রাহা বলেন, ‘‘স্থায়ী চাকরি নেই, মেধা অনুযায়ী কাজ নেই। তাই এই সামান্য টাকাই এখন ভরসা।’’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ প্রশমিত করতেই তড়িঘড়ি এই প্রকল্পের রূপায়ণ। নির্বাচনী আচরণবিধি জারির আগেই অন্তত এক কিস্তি অর্থ উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ।
শিল্পায়ন, নতুন কর্মসংস্থান বা স্থায়ী নিয়োগের রূপরেখা না দিয়ে নগদ ভাতার মাধ্যমে সমস্যা ঢাকার চেষ্টাকে কটাক্ষ করেছেন বিরোধীরা। ডিওয়াইএফআই’র দাবি, রাজ্যে শিল্পের অভাব ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্থবিরতার ফলেই এই পরিস্থিতি। জলপাইগুড়ির যুব সভাপতি অর্পণ পাল বলেন,‘‘নতুন শিল্প নেই, বহু কারখানা বন্ধ। সম্মানজনক কাজের বদলে ভাতা দিয়ে বেকারদের ভবিষ্যৎ গড়া যায় না। এই ভিড় সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ।’’
প্রশ্ন উঠছে, সাময়িক ভাতা কি দীর্ঘদিনের বেকারত্বের যন্ত্রণা মুছতে পারে? শিক্ষিত যুব সমাজের ক্রমবর্ধমান হতাশাই যেন তার জবাব দিচ্ছে।
'Yuva Sath'
‘যুবসাথী’র লাইন দেখাচ্ছে সরকারের ব্যর্থতাকেই, ভাতার লাইনে বিটেক-এমএ
×
Comments :0