dengue and malaria in Kolkata

কলকাতায় ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া রোধে সাফল্যের দাবি, আক্রান্তের সংখ্যা কোথায়, উঠল প্রশ্ন

কলকাতা

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই দপ্তরের খাতে বরাদ্দ করা হয়েছিল ১৮০ কোটি ৫ লক্ষ টাকা। বাজেটের তথ্য দেখা যাচ্ছে সেই টাকা পুরোটা খরচা করার যাবে না। ১২৬ কোটি ৭৭ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা খরচের লক্ষ্যমাত্রা পৌঁছাবে। ২০২৬ সালের স্বার্থপর সেই দপ্তরে বরাদ্দ করা হয়েছে ১৮৩ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা। যা গতবারের তুলনায় ৩ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা বেশি।  
কলকাতা কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য ও ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ এ দিন বাজেটের উপর আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, "কর্পোরেশনের ১৪৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই প্রাথমিক পৌর স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। কলকাতার প্রতি ১.৫ বর্গ কিলোমিটার অন্তর একটি করে স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। একেকটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২৫ হাজার মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হয়।’’ 
অতীন ঘোষ বলেছেন দিল্লিতে ২.৫ বর্গ কিলোমিটার অন্তর একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রয়েছে। একেকটি থেকে ৩০ হাজার মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হয়।’’ তাঁর দাবি, কলকাতার জনঘনত্ব অন্য মেট্রো শহরের থেকে বেশি। মুম্বাই বা চেন্নাইয়ের মতো মেট্রো শহরের তুলনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অনুপাতে এগিয়ে কলকাতা। 
কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী জানাচ্ছেন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত কিনা তা বোঝার জন্য প্রয়োজন জনঘনত্ব নির্ণয় করা। ২৫হাজার মানুষের যে তথ্য পেশ করেছেন ডেপুটি মেয়র তা গরিব, বস্তিবাসী মানুষের পরিসংখ্যান ধরে। এছাড়াও বহু মানুষ কলকাতায় বসবাস করেন।
ডাঃ গোস্বামী বলেন, ‘‘আসলে দেখা যাবে কলকাতায় প্রায় ৫০-৫৫ হাজার জনসংখ্যা পিছু কলকাতায় একেকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে।’’
অতীন ঘোষের দাবি স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া রোধে অভূতপূর্ব কাজ করেছে। ওয়ার্ড ভিত্তিক পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, রয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সও। ২০২৫ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮ শতাংশ কমেছে। ম্যালেরিয়া আক্রান্ত কমেছে ৫৬ শতাংশ। 
বিরোধী কাউন্সিলরদের বক্তব্য, স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলিতে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও সব ওয়ার্ডে পরীক্ষার পরিকাঠামো নেই। বরো ভিত্তিক এক বা দু’টি ওয়ার্ডে এই পরিকাঠামো রয়েছে। 
ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী বলেছেন, ‘‘শেষ তিন-চার বছরে রাজ্য সরকার বা কলকাতা পৌরসভা কেউ-ই ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া আক্রান্তের পরিসংখ্যান জনসমক্ষে নিয়ে আসেনি। দেশের অন্য সব রাজ্যের তথ্য পাওয়া যায়। যেখানে তথ্যই প্রকাশ হয় না সেখানে আক্রান্ত কমে যাওয়া সংক্রান্ত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায়?’’

Comments :0

Login to leave a comment