Assembly Mostafizur Rahman

সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত বিকেন্দ্রীভূত উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, বিধানসভায় প্রস্তাব মোস্তাফিজুর রহমান'র

রাজ্য কলকাতা

শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের খবর তৈরী করলেই হবে না, নতুন সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত বিকেন্দ্রীভূত উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা। সোমবার বিধানসভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর বাজেটের দাবি সংক্রান্ত আলোচনা প্রসঙ্গে এমনটাই বলেন ডোমকলের সিপিআই(এম) মোস্তাফিজুর রহমান। পাশাপাশি, তৃণমূল স্তরে স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে প্রান্তিক মানুষের কাছে সঠিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাবও রাখেন তিনি। 
আলোচনায় মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিগত বছরগুলিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দপ্তরের সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ১৫ বছর ধরে তিল তিল করে শেষ করা হয়েছে। এর মধ্যে যেমন গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা রয়েছে তেমনি রয়েছে জেলা, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পর্যন্ত। তাই এই নতুন সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটা বিকেন্দ্রীভূত উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, যা গ্রামীণ প্রান্তিক মানুষের কাছে পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া যাবে। 
সেইসঙ্গে তিনি বিগত দিনে আর জি কর অভয়াকাণ্ডের উল্লেখ করে বলেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সরকারের যে দুর্বলতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রথমেই  তা দূর করবে হবে। 
সেইসঙ্গেই তিনি বলেন,  বিধানসভায় কত কোটি টাকার বাজেট পেশ হল তার থেকেও বড় বিষয় হচ্ছে যা বরাদ্দ করা হচ্ছে তা প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে কি না, তা সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা আমাদের দেখা উচিত। গ্রামীণ প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে, ডাক্তার খাতা কলমে থাকলেও তারা সেখানে সঠিক সময় পৌঁছায় না- এই ধরনের বিষয়গুলিতে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করে, তা আমাদের খতিয়ে দেখা দরকার। সেইসঙ্গে, এবার রাজ্য সরকার রোগীদের প্রতি বরাদ্দ বাড়ালেও প্রত্যেকবার একই এজেন্সি মারফত খাদ্যের যোগানের যে ব্যবস্থাকরা হয়, সেই সংস্থাগুলি  অনেকসময় সেই হাসপাতালে নেক্সাস তৈরি করে, এই ধরনের বিষয়গুলি সরকারের নজরদারিতে আনা দরকার। রাজ্যের স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতালগুলির  সিকিউরিটিকেও নিয়ন্ত্রণ করা হয়, সাব ডিভিশন হাসপাতালগুলিতে যারা এই কাজে নিযুক্ত রয়েছেন বেশিরভাগ সময় দেখা গেছে তারা কোন নেতা বা মন্ত্রীর কাছের লোক, ফলতো দেখা গিয়েছে ওই হাসপাতালগুলোতে ওয়ার্ড বয় বা ওয়ার্ড গার্ল-এর কাজ যারা রয়েছেন তাদেরও মান খুব একটা ভালো না, এই বিষয়গুলো সরকারের নজর দেওয়া দরকার। বিগত দিনে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, যদি হাসপাতালে নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা শিথিলতা দেখাই তা ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করবে। 
তিনি আরও বলেন, ডোমকলের একটি সাব ডিভিশন হাসপাতালে কিছু সমস্যা রয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেইকথা মিডিয়ার সামনে উল্লেখ করলেও বিষয়টা শুধুমাত্র পাবলিসিটির জন্য মিডিয়ার সামনে বললে হবে না। আউটডোর পরিষেবা সঠিক সময় চালু করা হয় না এমন গ্রামীন বহু হাসপাতালে, এই বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে আমাদের দেখা দরকার। আশা কর্মীদের যে ধরনের কাজ করার দরকার, গর্ভবতী মায়েদের যে পরিষেবা দেয়া দরকার তা আদতেও সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা সেদিকেও নজর দেওয়া দরকার। গ্রাম গ্রামান্তর থেকে শহরের কোন একটা হাসপাতলে রেফার করে দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে ঠিকমতো না দেখে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। এভাবে রোগীদের রেফার করার মাধ্যমে রোগীদের যে হয়রানি করা হয়, তার জন্য রোগী কল্যাণ সমিতি এবং যে মনিটরিং কমিটি গুলি রয়েছে তারা সঠিক পরিষেবা দিচ্ছে কিনা সে দিকেও নজর দেয়া দরকার। পাশাপাশি, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার যে পরিকাঠামো সেগুলি ধুঁকছে, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকেও  বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। ব্লাডব্যাংকে রক্তের অপ্রতুলতার বিষয়কেও বিশেষভাবে নজর দিয়ে ব্লাড ব্যাংকের সংখ্যাকেও বাড়াতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment