Mujaffar Ahmed Prize

মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ স্মৃতি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত দু’টি বই

রাজ্য

২০২৬ সালের মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ স্মৃতি পুরস্কারের জন্য কেরালার ইতিহাসবিদ কে এন গনেশ এবং ইটাহার কলেজের বাংলার বিভাগীয় প্রধান আইরিন শবনমের লেখা দুটি বই নির্বাচিত হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের ১৩৮ তম জন্মদিবসের অনুষ্ঠানে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে। কে এন গনেশের লেখা লেফটওয়ার্ডের প্রকাশিত ‘দ্য ডায়ালেকটিক অব হিস্ট্রি: এ স্টাডি অব নেচার অ্যান্ড সোসাল প্রসেস’ বইটি এবং আইরিন শবনমের লেখা একুশ শতকের প্রকাশিত ‘বাঙালি মুসলমান: সংস্কৃতির সংকট’ বইদুটি নির্বাচিত হয়েছে এবারের পুরস্কারের জন্য। 
মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ স্মৃতি পুরস্কার কমিটির সভাপতি শ্রীদীপ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রতি বছরই সমাজ প্রগতির লক্ষ্যে রচিত বইগুলির মধ্য থেকে পুরস্কারের জন্য বই বাছাই করা হয়। এবারও বাংলা ও ইংরেজিতে অনেকগুলি ভালো মানের বই পুরস্কার কমিটির কাছে এসেছিল। কমিটির আরও দুই সদস্য কল্লোল মজুমদার এবং জিয়াউল আলমের সঙ্গে মিলিতভাবে আমরা এবার কেরালা কাউন্সিল অব হিস্টোরিকাল রিসার্চের সদস্য কে এন গনেশের লেখা বইটি এবং ইটাহার কলেজের বাংলার বিভাগীয় প্রধান আইরিন শবনমের লেখা বইদুটি বেছে নিয়েছি। বই দুটি বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং অবশ্যপাঠ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। 
‘দ্য ডায়ালেকটিক অব হিস্ট্রি: এ স্টাডি অব নেচার অ্যান্ড সোসাল প্রসেস’ বইটি সম্পর্কে শ্রীদীপ ভট্টাচার্য বলেছেন, মার্কসবাদের উত্থাপিত কতকগুলি মৌলিক প্রশ্ন নিয়ে বইটিতে আলোচনা করেছেন লেখক। দীর্ঘদিনের গভীর চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে বইতে যা পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি রাখে। বিজ্ঞানের অধ্যায়নে বিবর্তন, মানব সভ্যতার আদি ইতিহাস, মানুষের স্থানান্তর, সভ্যতার গতিপথ, বুদ্ধির বিকাশ ইত্যাদি প্রসঙ্গে সাম্প্রতিকতম অগ্রগতির নিরিখে ধারাবাহিক ভাষ্যে বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতি বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের গভীর প্রয়োগের মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। ২০০৮ সালের বিশ্বজোড়া অর্থনৈতিক সংকটের পর মার্কসবাদের চর্চা বেড়েছে। আজকের দিনের উদ্ভুত সমস্যার সমাধানে, মানবসমাজের বৈপ্লবিক পরিবর্তন উপলব্ধিকে লক্ষ্যে রেখে বইটি রচিত হয়েছে। মার্কসীয় তত্ত্বের চর্চার ভাণ্ডারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। আইরিন শবনমের বইটিও বর্তমান সময়ে খুবই প্রাসঙ্গিক ও প্রগতিশীল পাঠকদের অবশ্যপাঠ্য। আত্মানুসন্ধানের প্রক্রিয়ায় তিনি উত্তর খুঁজেছেন, বাংলার মুসলমানরা কি বাঙালি নয়? তাঁদের মাতৃভাষা কি বাংলা নয়? এদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি কি ভারতীয় মুসলমানদের সংস্কৃতি নয়? আরব ইরানের সংস্কৃতি কি তাঁদের সংস্কৃতি? বাংলার গর্বের রেনেসাঁয় কি বাঙালি মুসলমান যুক্ত ছিল না? না থাকলে কেন ছিল না? পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণে বাঙালি মুসলমানের কেন দেরী হলো, কেন হিন্দুদের মতো মধ্যবিত্ত সমাজ তাঁদের মধ্যে গড়ে উঠতে পারেনি? যুক্তিনিষ্ঠ ও বস্তুবাদী দৃষ্টিতে তিনি আলো ফেলার চেষ্টা করেছেন, আজকের ভারত ও বাংলায় যা খুবই প্রাসঙ্গিক।

Comments :0

Login to leave a comment