মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ রেলস্টেশনের কাছে শুক্রবার সকালে মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনায় দুই স্কুলপড়ুয়াসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। যার মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পূর্ব রেলের এক আধিকারিক জানান, শুক্রবার সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ কর্ণসুবর্ণ রেলস্টেশনের কাছে একটি লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া একটি পুলকারকে ধাক্কা মারে একটি লোকাল ট্রেন। সংঘর্ষের জেরে ঘটনাস্থলেই দুই পড়ুয়াসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় আহত তিনজনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সেখানেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পরপরই পূর্ব রেল একটি ১০ সদস্যের তদন্তকারী দল গঠন করেছে। কেন ট্রেন আসার সময় লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খোলা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ট্রেন আসার সময়ও গেট খোলা ছিল, যার জেরেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পূর্ব রেল।
এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রত্যেক মৃতের নিকটাত্মীয়কে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন।
এই দুর্ঘটনার জেরে পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখায় কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ একটি ট্রেন যাওয়ার জন্য রেলগেট বন্ধ করা হয়েছিল। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর গেট খুলে দেওয়া হলে অপেক্ষমাণ যানবাহন রেললাইন পার হতে শুরু করে। অভিযোগ, ঠিক সেই সময়ই দ্রুতগতিতে এসে পড়ে আরেকটি ট্রেন। মুহূর্তের মধ্যে সেটি স্কুলগাড়িটিকে ধাক্কা মারলে গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভিতরে আটকে পড়ে একাধিক শিশু।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। পরে পুলিশ ও রেলের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকেরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই রেলগেট পরিচালনায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রথম ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর গেট খুলে দেওয়া হলেও দ্বিতীয় ট্রেন আসার আগে সেটি আর বন্ধ করা হয়নি। ফলে কীভাবে গেট খোলা অবস্থায় ট্রেন প্রবেশ করল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গেটম্যানের ভূমিকা এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেল সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে হাওড়া থেকে চারজন সিনিয়র আধিকারিক ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছেন। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Comments :0