জয়ন্ত সাহা
ডুয়ার্সে ঘুরতে আসার জন্য ট্রেনের টিকিট থেকে রিসর্ট বুকিং সব হয়ে গিয়েছিল,কিন্তু বাধ সেধেছে এনজেপিতে নেমে গন্তব্যে যাবার এবং ঘুরবার যান মিলবে কি করে? লজের ম্যানেজারেরা ফোন করে পর্যটকদের জানাচ্ছেন,আসামের ভোট ৯ এপ্রিল। উত্তরবঙ্গ থেকে ছোটবড় যানবাহন তুলে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অতএব ক্যানসেল যাত্রা। মন খারাপ শুধু পর্যটকদের নয়, মাথায় হাত পড়েছে পর্যটন ব্যবসায় জড়িত কয়েক হাজার হোমস্টে, হোটেল মালিক থেকে গাড়ির মালিক, খাবারের দোকানদার এমনকি টোটো চালকদেরও। মাদারিহাটের হোটেল ব্যবসায়ী অতনু সরকার বলেন,‘‘আমাদের এখানে যত হোম স্টে,রিসর্ট, লজ আছে সেগুলিতে একের পর এক বুকিং বাতিলের ফোন আসছে প্রতিদিন।’’
রিসর্ট মালিক তরুন সাহা বলেন, ‘‘ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তরবঙ্গ অশান্ত হবার খবর দেখে কেউ আর আসতে রাজি হচ্ছেন না। বুকিং বাতিল হচ্ছে প্রতিদিন। আবার অতিথিদের যাতায়াতের সমস্যার কথাও খুলে জানাতেই ক্যানসেল হচ্ছে বুকিং!’’
পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ডুয়ার্সে যারা ঘুরতে আসতেন তাদের বড় অংশই বুকিং বাতিল করছেন বলে খবর মিলছে। এদিকে বেশ কিছু রিসর্ট মালিক নিজেরাই ভোটের সময়ে বুকিং নেওয়া কমিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, ভোটের অন্তত ১৫ দিন আগে থেকেই রাস্তায় বেসরকারি যান অমিল হয়। ভোটের কাজে প্রশাসন সেগুলি নিয়ে নেয়। ফলে পর্যটকদের হয়রানির কথা মাথায় রেখে বুকিং কমিয়ে দেওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা থাকে না। গরুমারা ট্যুরিজিম ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মরশুমে পর্যটক আসার সম্ভবনা খুব কম। ভোটের আবহ শেষ হলে যতটুকু ব্যবসা হবে তাতে খরচ সামলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই সমস্যা হবে। মার খাবে পর্যটন ব্যবসা। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী রাজ্য আসামে ৯ এপ্রিল ভোট। উত্তরবঙ্গ থেকে দেড় হাজার ছোট বড় গাড়ি রবিবার থেকেই যাওয়া শুরু হয়েছে। ফলে পর্যটকেরা এলে পরিবহণ সমস্যার আশঙ্কাই রয়েই যাচ্ছে।
উত্তরবঙ্গে ২৩ এপ্রিল ভোট। গননা হবে ৪ মে। তারপরেও কিছুদিন উত্তপ্ত থাকবে রাজনৈতিক আবহাওয়া। এদিকে ১৫ জুন থেকে উত্তরবঙ্গের সমস্ত বনাঞ্চলে তিন মাসের জন্য প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে পর্যটকদের। ফলে এবারে বড় জোর এই মরসুমে ৩০ দিন পর্যটক পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ভোটের কারণে পর্যটন ব্যবসা অন্তত দেড় মাস মার খাবে। আশঙ্কা ক্ষতি হবে কোটি কোটি টাকার।
Comments :0