মধ্য কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে এক চার বছরের শিশু ও দুই মহিলা রয়েছেন। ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। তবে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্রায় ৮০ জনকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে দমকল বাহিনী।
বুধবার ঘটনাস্থলে এসে রাজ্যের অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, মৃতদের অধিকাংশের মৃত্যু দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে হয়েছে। বেশিরভাগ মৃতদেহে পোড়ার চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করতে পেরেছি। দমকল দপ্তরের সদর দপ্তর কাছেই থাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে।’ তার দাবি, রাত ২টা ৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায় এবং ২টা ৮ মিনিটের মধ্যেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এক দম্পতিকে ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের একমাত্র জানালা দিয়ে বের করে আনা হয়। এ প্রসঙ্গে কৌশিক চৌধুরী বলেন, ‘যদি আরও জানালা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকত, তাহলে আরও অনেককে বাঁচানো সম্ভব হতো।’
ভবনে অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ভিতরে গিয়ে খুব বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। ফরেন্সিক তদন্তে সব বিষয় স্পষ্ট হবে।’
মন্ত্রী আরও জানান, ভবনটির প্রতিটি তলায় চার থেকে পাঁচটি করে হোটেল রয়েছে এবং অধিকাংশ ছোট ছোট ঘরে জানালাও নেই। তিনি অভিযোগ করেন, এমন হোটেলগুলিকে কীভাবে বাণিজ্যিক লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন কৌশিক চৌধুরী। পাশাপাশি আশপাশের অন্যান্য ভবনেও থাকা হোটেলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। রাজ্যের সমস্ত হোটেলে অগ্নি-নিরাপত্তা নিরীক্ষা (ফায়ার অডিট) চালানোর কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
অন্যদিকে হোটেল মালিকের নাম বিরেশ্বর মিশ্র। পলাতক। গতকাল রাতে ঘটনার পর ফোন করা হলেও ফোন ধরেনি। ভোর থেকে ফোনের সুইচ অফ। এই এলাকায় ওনার একাধিক হোটেল রয়েছে। বেহালার বাসিন্দা বীরেশ্বর মিশ্র। জানাগেছে কলকাতা কর্পোরেশন ও বিভিন্ন বিভাগে তার প্রভাব ছিলো তৃণমূল সরকারের সময়ে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ আগস্ট বীরভূমের তারাপীঠে একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরপর দুই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে হোটেলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
Comments :0