সমালোচনার মুখে পড়ে সপ্তাহে দুদিন পড়ুয়াদের ডিম সিদ্ধ দেওয়ার কথা ঘোষনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার সাথে জানালেন কোন মিড ডে মিল কর্মীদের কাজ যাবে না।
শনিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ইসকনের পক্ষ থেকে কলকাতার স্কুল গুলোয় মিড ডে মিল দেওয়ার কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইসকনে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘কোন মিড ডে মিল কর্মীর কাজ যাবে না। ইসকন তাদের রান্নার কাজে খাবার দেওয়ার কাজে যুক্ত করে নেবে।’ উল্লেখ্য ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার তাদের প্রথম বাজেটে ঘোষনা করে যে কলকাতার স্কুল গুলোয় মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হবে ইসকনকে। ইসকনের সেন্টারে রান্না হয়ে তা স্কুল গুলোয় পৌঁছে যাবে বলেও জানানো হয়। সরকারের এই ঘোষনার ফলে মিড ডে মিল কর্মীদের কাজ চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তারা পথে নামেন। মিছিল হয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। সেই সময় সরকার মুখ না খুললেও এদিন চাপের মুখে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে কোন মিড ডে মিল কর্মীর চাকরি যাবে না। এর পাশাপাশি পড়ুয়াদের থালা থেকে ডিম তুলে নেওয়া নিয়েও হয় সমালোচনা। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ডিম দেওয়ার কথা জানালেও তার কথায় ছিল ঔদ্ধত্য। বামপন্থীদের নিশানা করে বলেন, ‘অনেক দল ইসকনকে মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়ার পর রাস্তায় আন্ডা আন্ডা করে নেমে পড়েছিল। আমরা ডিম দেবো। আগের দুই সরকার মিড ডে মিলের জন্য কিছু করেনি।’ উল্লেখ্য ২০১১ সাল পর্যন্ত রাজ্যে মিড ডে মিল নিয়ে কোন দুর্নীতি বা অভিযোগ শোনা যায়নি। তৃণমূল শাসনে মিড ডে মিল নিয়ে উঠেছিল একের পর এক অভিযোগ। সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন তৃণমূল নেতা।
ইসকনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তাদের অন্নামৃত কেন্দ্র থেকে মিড ডে মিল রান্না করে পৌঁছে দেওয়া হবে স্কুল গুলোয়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ৫০০ টি স্কুলের ৪৪ হাজার পড়ুয়া এই মিড ডে মিল পাবেন, পরবর্তী সময় ২.৫ লক্ষ পড়ুয়াকে যুক্ত করা হবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সেবার মনোভাব নিয়ে ইসকন এই কাজ করবে। বাজেটে মিড ডে মিলের জন্য মাথা পিছু ১০ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। ইসকনের যা মেনু তাতে এই টাকায় হয় না। বহু মানুষ সাহায্য করছেন এই কাজে, বহু কর্পোরেট সংস্থা ইসকনকে সাহায্য করছে এই কাজে।’
মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ড্রপ আউট আটকানোর অন্যতম হাতিয়ার মিড ডে মিল। কিন্তু রাজ্য বন্ধ হতে যাওয়া আট হাজার সরকারি স্কুল গুলোকে নতুন করে বাঁচানোর জন্য কী উদ্যোগ তার সরকার নিচ্ছে সেই বিষয় এখনও কোন কথা শোনা যায়নি। রাজ্য নয়া শিক্ষা নীতি চালু করা হয়েছে, যেখানে ডিজিটাল এডুকেশনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের রাজ্যের প্রান্তিক অংশের মানুষের পক্ষে প্রতিমাসে ইন্টারনেটের খরচ বহন করা অসম্ভব। সেই বিষয় সরকার কিছু ভাবছে কিনা তার কোন কথা সরকারের কাছে নেই। ‘বিশুদ্ধ স্বাত্তিক আহার’ দিয়ে সব কিছুকে ভুলিয়ে রাখতে চাইছে রাজ্যের বিজেপি সরকার।
Suvendu Adhikari
ইসকনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে চাপের মুখে মিড ডে মিলে ডিম দেওয়ার কথা বললেন শুভেন্দু
×
Comments :0