বীরভূমে অবৈধ পাথরের খাদান, ডিসিআর নিয়ে পূর্বতন সরকারকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওপর তলার নির্দেশ ছাড়া কোন ভাবেই এই দুর্নীত চলতে পারে না। সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন তিনি। তার কথায়, মমতা ব্যানার্জির কথায় এই কাজ চলেছে। শুভেন্দুর কথায়, গত ১৫ বছরে বীরভূম থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। উল্লেখ্য ১৫ বছরের মধ্যে ১০ বছর শুভেন্দু ছিলেন মমতার প্রিয় পাত্র। ছিলেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রীও।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন টুলু মণ্ডলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। টুলুর ব্যাঙ্কে ৯৩ কোটি টাকা রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ৩০০ বিঘা জমি সহ ২১টি সম্পত্তি, সাতটি বাড়ি, একটি ফার্ম হাউস, দুটি পেট্রোল পাম্প, পাথর খাদান সিজ করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। টুলু মণ্ডলের প্রাণ ১৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
বীরভূমে প্রায় ৫০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত নেমে পলাতক পাথর ব্যবসায়ী মহম্মদ নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিল করে দিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় বেআইনি সম্পত্তি, রাজস্ব ফাঁকি, জমি দখল এবং পাথর ও বালিখাদানের অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, টুলু মণ্ডলের বাড়ি থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নগদ, প্রায় ২৫০ গ্রাম সোনা, ৯০০ গ্রাম রুপো এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। ওই নথিগুলি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের কথায়, বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত টুলু মণ্ডল এখনও পলাতক। তার বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বেআইনিভাবে জমি দখল, তোলাবাজি এবং পাথর ও বালি খাদান সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার তথা ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার আগের দিন দেউচা গ্রামের মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২৮.৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কিলোগ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে সন্দেহভাজন বেআইনি সম্পদ উদ্ধারের ঘটনাগুলির মধ্যে এটি অন্যতম বড় অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সোনার মধ্যে ছিল ১ কেজি ওজনের ১৪টি সোনার বার এবং ১০০ গ্রাম ওজনের ১০টি সোনার বিস্কুট। বর্তমান বাজারদরে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২১.৫ কোটি টাকা। বুধবার অভিযানের সময় মিনার মণ্ডল ও তার ছেলেকে আটক করা হলেও, বৃহস্পতিবার সকালে মিনারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
Suvendu Adhikari
বীরভূমের অবৈধ খাদান, ডিসিআর নিয়ে তৃণমূলেকে নিশানা শুভেন্দুর
×
Comments :0