বিন্নাগুড়ি চা বাগানে চিতা বাঘের আক্রমণে আহত হলেন এক মহিলা চা শ্রমিক। রিতিমতো চিতা বাঘের সঙ্গে লড়াই করে প্রাণ বাঁচলেন তিনি। আহত শ্রমিকের নাম রশনি ওরাও(৩৫)। বিন্নাগুড়ি চা বাগানের নিউ লাইনের বাসিন্দা। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় ধূপগুড়ি মহকুমার বানারহাট থানার বিন্নাগুড়ি চা বাগানে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বুধবার চা বাগানে পাতা তোলার সময় চিতা বাঘের মুখোমুখি পড়ে যান রশনি। চিতা বাঘটি ঝাঁপিয়ে পড়ে তার উপর। বুকে এবং ঘাড়ে কামড়ে দেয়। প্রাণে বাঁচতে রীতিমতো চিতা বাঘের সঙ্গে লড়াই শুরু করে দেন তিনি। সাহস করে চিতা বাঘের মুখে ঘুসি বসিয়ে দেন। তাতেই চিতা বাঘকে চা বাগানের গভীরে পালিয়ে যায়। এদিন বেলা একটা নাগাদ ঘটনা টি ঘটে বাগানের তিন ও পাঁচ নম্বর সেকশনের মাঝে। পাতা তোলার সময় আচমকা তার উপরে চিতা বাঘ ঝাপিয়ে পড়ে। মহিলার বুকে এবং গলায় কামড়ে ধরে চিতাবাঘ। রিতি মতো চিতা বাঘের সঙ্গে লড়াই করে প্রাণে বাঁচেন মহিলা। মহিলার চিৎকার শুনে আশেপাশের শ্রমিকরা ছুটে আসেন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় বানারহাট হাসপাতাল। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
উদ্বিগ্ন চা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বন কর্মীরা।
চিতা বাঘের হামলার খবর পেয়ে বাগানে ছুটে আসেন বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণী স্কোয়াডের রেঞ্জার ও কর্মীরা। চিতা বাঘের গতিবিধির উপর নজরদারি চালাতে বাগানে বসানো হয় ট্র্যাোপ ক্যামেরা। গত তিন দিনে এই নিয়ে দুটি চিতা বাঘের হামলার ঘটনা ঘটলো বানারহাট এলাকায়। ফলে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বাগান শ্রমিকদের মধ্যে।
বাগান শ্রমিকদের দাবি এই বাগানে প্রচুর চিতা বাঘ রয়েছে। তাই বাঘ ধারার খাঁচা পাতার ও দাবি করেছেন তারা।বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণী স্কোয়াডের রেঞ্জার হিমাদ্রি দেবনাথ বলেন, ‘‘আমাদের কাছে খবর আসে চিতা বাঘের হামলায় এক মহিলা আহত হয়েছেন। আমরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। চিতা বাঘের উপর নজরদারি চালাতে ট্র্যা প ক্যামেরা বসানো হয়েছে।’’
Comments :0