পূজা বোস
আইন মেনে এসআইআর হয়নি। হয়েছে লাইন মেনে। তাই এত হেনস্তা, এত হয়রানি। কেড়ে নেওয়া হচ্ছে মানুষের ভোটাধিকার।
শুক্রবার পাইকপাড়ায় নির্বাচনী জনসভায় একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, লুটের টাকা আর গুন্ডা দিয়ে ভোট লুট করা হলে গণতন্ত্র বলে কিছু থাকে না।
কাশীপুর বেলগাছিয়া কেন্দ্রে সিপিআইএম প্রার্থী রাজেন্দ্র গুপ্তার সমর্থনে জনসভা হয় এদিন। বক্তব্য রেখেছেন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কনীনিকা ঘোষ, সিপিআই(এম) নেতা প্রতীপ দাশগুপ্ত এবং প্রার্থী রাজেন্দ্র গুপ্তা।
সেলিম বলেন, ২০১১ সালে মমতা যখন মুখ্যমন্ত্রী হলেন, তখন বললেন বিরোধীদের মুখে লিউকো প্লাস্ট লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা বামপন্থীরা সেই পরিবর্তনের জমানাতেও বিমান বসুকে নিয়ে মিছিল করেছি এই এলাকায়। আর তখন তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা ইট ছুঁড়েছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রথম বামফ্রন্ট সরকার যখন গড়েছিলাম বলেছিলাম গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব। আমরা বলেছিলাম পঞ্চায়েত থেকে সমবায়, কোঅপারেটিভ এবং ক্লাবে অর্থাৎ সব জায়গায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা থাকবেন। কিন্তু মমতা আসার পর আর ওই সব জায়গায় নির্বাচন হয় না। সংবিধানের যে গণতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে তাকে ভিতর থেকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে এইভাবে।
আইনজীবী রাজেন্দ্র গুপ্তা'র সমর্থনে শুক্রবার পাইকপাড়ার নর্দান এভিনিউ'র পঞ্চাশ ফুটের রাস্তায় নির্বাচনী সভা হয়।
নির্বাচনী সভার শুরুতেই এদিন থিম সং 'বাঁচাতে বাংলা ফেরাতে হাল,কাশিপুর- বেলগাছিয়া এবার শুধুই লাল ' গানটি প্রকাশ করা হয়। জনসভায় অংশ নেন বহু মানুষ।
সেলিম বলেন, ভোটার লিস্ট নিয়ে এমন ভয়ভীতির সঞ্চার আগে দেখা যায়নি। যদি আইন মেনে কাজ হতো তাহলে ভোটার লিস্টটা সুষ্ঠভাবে করা যেত কিন্তু আইনের বদলে লাইনে কাজ হয়েছে। তাই কি অবস্থা হয়েছে তা আমরা দেখছি।
সেদিন বলেন, অনেকে বলেছিল লাল হটালে দেশ বাঁচবে। লাল হটলেও দেশ বাঁচেনি, তাই দেশকে বাঁচাতে হলে লালকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
কনীনিকা ঘোষ বলেন, রাজ্যে ফসলের দাম নেই, শিক্ষা নেই, পরিকাঠামো নেই। কতদিন এই ‘নেই রাজ্যের’ বাসিন্দা হয়ে থাকবেন? এই নির্বাচনে পাল্টা জবাব চাইবেন না? অনেকে বলেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপিকে দিয়ে কাজ হবে। বিরোধী শক্তি হয়ে বিজেপি কী করতে পেরেছে?
তিনি বলেন, তাকিয়ে দেখুন একটার পর একটা জায়গা দুর্নীতি করেছে তৃণমূল। আর সেটাকেই সেটিং করে ধামাচাপা দিয়েছে বিজেপি।
তিনি বলেন, বিজেপি’র ঘোষিত শত্রু কমিউনিস্টরা। এরা মুচলেকা দিয়ে বলেছিল ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যাবে না। আর কমিউনিস্টরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে। দেশপ্রেম কি? সেটা বিজেপিরা এখন বামপন্থীদের শেখাবে? আসলে বিজেপি চাই বামপন্থী আর যাতে লড়াইয়ের ময়দানে না থাকুক। তাই আসল ইস্যুর বিরুদ্ধে এরা বাইনারি তৈরি করে মানুষকে তার বেঁচে বেঁচে থাকার বিষয়গুলি ভুলিয়ে দিতে।
প্রতীপ দাশগুপ্ত বলেন , এখানকার অনেক মানুষও আছেন যাঁরা ভোট দিতে পারবেন না । সংখ্যালঘু, রাজবংশী, মতুয়া বাদ।
রাজেন্দ্র গুপ্তা বলেন, এখন ২৭ লাখ লোকের নাম ট্রাইব্যুনালে রয়েছে। আমরা বামপন্থীরা যাতে একটাও লোকের নাম বাদ না যায় সেই জন্য লড়াই করেছি। সবাই যাতে নিজের ভোট নিজের আর দিতে পারেন সেই জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমরা ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখছি। গরিব মানুষ কিভাবে জীবনযাপন করছে, রান্নাঘরের নর্দমার জল ঢুকে রয়েছে। রাস্তা চলার মত নয়। লাইট নেই জল নেই। পাঁচ বছরে কী করলেন এই বিধায়ক? এখানকার ছেলেমেয়েরা কাজ পায়নি। তাদের কাজের জন্য যেতে হয়েছে হায়দরাবাদ, পুনেতে। আর এখানটা বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে আপনার কণ্ঠস্বরকে বিধানসভার মধ্যে পৌঁছে দিতে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের জয়যুক্ত করুন।
Comments :0