ইরান-আমেরিকা সমঝোতায় প্রক্রিয়ায় ভারতকে সরিয়ে রেখে পাকিস্তান ঢুকে পড়েছে কিভাবে? ‘বিশ্বগুরু‘-র বিশ্বখ্যাত ‘হাগলোম্যাসি’ পরিণত বিদেশনীতি দিতে পারল না কেন?
পাকিস্তানে ইরান-আমেরিকা সমঝোতা আলোচনার ফাঁকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে লক্ষ্য করে এই প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘বিশ্বগুরু’ আখ্যা দিয়ে প্রচারে নেমেছিল বিজেপি। বিদেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের জড়িয়ে ধরছেন মোদী, ইংরেজিতে যাকে বলে ‘হাগ‘, তার ছবি ফলাও করে ছড়িয়েছিল। আলিঙ্গন নীতির পরিভাষাও বেরিয়ে পড়ে- ‘হাগলোম্যাসি’।
ঘটনা হলো আমেরিকাকে খুশি করার বিদেশ নীতি নিয়ে চলায় বরাবরের বন্ধুদের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে। তা নিয়ে বারবার সরব বামপন্থীরা। কূটনীতি বা ‘ডিপ্লোম্যাসি’-র বদলে ‘হাগলোম্যাসি’ আদৌ কার্যকর কিনা, উঠেছে সে প্রশ্ন।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আমেরিকার উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। ইরানের পক্ষে রয়েছেন সংসদের অধ্যক্ষ মহম্মদ গালিবাফ, বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিরা।
তার মধ্যেই কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের মন্তব্য, ‘‘স্বঘোষিত বিশ্বগুরুর আলিঙ্গন নীতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।’’ তিনি বলছেন, ‘‘পহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলায় পাকিস্তানের জঘন্য ভূমিকার পরও পাকিস্তান এই ভূমিকা নিতে পারল কিভাবে? পাকিস্তানকে কূটনৈতিক স্তরে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারল না কেন ভারত? ২০০৮ সালে মুম্বাই সন্ত্রাসবাদী হামলার পর কিন্তু পাকিস্তানকে সারা বিশ্বে নিঃসঙ্গ করে দেওয়া গিয়েছিল।’’
রমেশ বলছেন, ‘‘আমেরিকায় গিয়ে মোদীর ‘নমস্তে ট্রাম্প‘, ‘হাউডি মোদী‘, ‘ফির একবার ট্রাম্প সরকার’ প্রচার করেছেন মোদী। অথচ, আমেরিকাকে পাকিস্তানের সমঝোতা উদ্যোগে সাড়া দিল। ভারত আপত্তি জানালো না কেন?’’
পাকিস্তানের নওয়াজ শরিফ সরকারও আমেরিকার অনুচরের ভূমিকাই পালন করে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী শরিফ তার জন্য সমালোচনার মুখেও পড়েছেন।
রমেশ বলেছেন, ‘‘ভারত এখন ‘ব্রিকস’ গোষ্ঠীর সভাপতি। ইরান, সৌদি আরবও ‘ব্রিকস’ গোষ্ঠীর সদস্য। তা’হলে ভারত কেন শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিল না?’’ তিনি বলেছেন, ‘‘পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত শান্তি ফেরা জরুরি। হরমুজ প্রণালির ঠিক আগের অবস্থাতেই ফিরে যাওয়া উচিত।’’
Modi Huglomacy Congress
শান্তি উদ্যোগে ভারত কোথায়? মোদীর ‘হাগলোম্যাসি’-তে প্রশ্ন কংগ্রেসের
×
Comments :0