আসন্ন হাওড়া ও কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার ফের একপ্রস্ত ফাঁকা প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে হাজির হল রাজ্য বিজেপি। সাংবাদিক সম্মেলন করে বর্ষীয়ান নেতা রাহুল সিনহা যে ভাষায় তৃণমূলের সমালোচনা করলেন, তাতে স্পষ্ট হলো বিজেপি ও তৃণমূল আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল সিনহা দাবি করেন, হাওড়া ও কলকাতা পৌরসভায় বিজেপি পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে নামছে। অথচ বাস্তব হলো, দেশের বিজেপি শাসিত পৌরসভাগুলির দিকে তাকালেই তাদের উন্নয়নের নমুনা স্পষ্ট। কেন্দ্রের স্মার্ট সিটি থেকে অমৃত প্রকল্পের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট আর দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত বিজেপি আজ বাংলায় নাগরিক পরিষেবা নিয়ে উপদেশ দিচ্ছে।
হাওড়ায় দীর্ঘদিন ভোট না হওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন রাহুল সিনহা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নির্বাচন কমিশন ও আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকার এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি? আসলে তৃণমূলের সঙ্গে গোপন আঁতাত রেখে পৌরভোট পিছিয়ে দেওয়ার সুবিধা বিজেপিও নিয়েছে।
আরও হাস্যকর দাবি, বিজেপি নাকি শান্তিপূর্ণ, রক্তপাতহীন নির্বাচন চায়। যে দলের নেতাদের উস্কানিতেই বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি হয়েছে, যে দলের জমানায় ত্রিপুরা থেকে উত্তরপ্রদেশ সর্বত্র বিরোধীদের রক্ত ঝরেছে, তাদের মুখে শান্তির বুলি মানায় না।
২৬ অক্টোবর প্রার্থীপদের আবেদনের শেষ দিন ঘোষণা করে রাহুল সিনহা বলেন, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী দেওয়া হবে। কিন্তু বাংলার মানুষ দেখেছে, বিজেপিতে কিভাবে তৃণমূল থেকে আসা দুর্নীতিগ্রস্ত, তোলাবাজ নেতাদেরই প্রার্থী করা হয়। ওয়ার্ড ভিত্তিক চার্জশিট প্রকাশের কথা বলছেন, অথচ যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তারা এখন অনেকেই বিজেপির নেতা।
Comments :0