সুগন্ধি কালো নুনিয়া ধানের চাষে ঐতিহ্য ডুয়ার্সের বানারহাট ব্লকের শালবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের দুরামারি এলাকায় রয়েছে। অনুকূল মাটি ও জলবায়ুর কারণে এই ধানের গুণমান ও সুনাম আছে। কিন্তু সেচের অনিশ্চয়তা, মোরাঘাট জঙ্গল থেকে হাতির হানা এবং উৎপন্ন ধানের কম দাম—এই তিন সমস্যায় জেরবার এলাকার কৃষকরা। তাঁদের কাছে ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও চাষ করে লাভের মুখ দেখা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
স্থানীয় কৃষক মানিক রায়ের অভিযোগ, কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়া সত্ত্বেও দুরামারিতে সেচের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। ফলে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জলের জোগান নিয়ে প্রতি মরশুমেই সমস্যায় পড়তে হয়। তার উপর ধান পাকার সময়ে সংলগ্ন মোরাঘাট জঙ্গল থেকে হাতির পাল নেমে এসে জমির ফসল নষ্ট করে। ফসল বাঁচাতে রাত জেগে পাহারা দিয়েও অনেক সময় শেষরক্ষা হয় না। উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কাও বাড়ছে।
কৃষকদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে কালো নুনিয়া ধান চাষ করতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। অথচ প্রতি মণ, অর্থাৎ ৪০ কেজি ধান বিক্রি করে মাত্র ১,৯০০-২০০০ টাকা মিলছে। ফলে পরিশ্রম ও খরচের অনুপাতে আয় হচ্ছে না বলে অভিযোগ । উৎসব-পার্বণে সুগন্ধি আতপ চালের চাহিদা থাকলেও সেই চাহিদার সুফল উৎপাদক কৃষকদের ঘরে পৌঁছাচ্ছে না।
সাধারণত ভাদ্র মাসে এই ধানের রোপণ শুরু হয় এবং অগ্রহায়ণ মাসে ফসল তোলা হয়। শালবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এই ধানের চাষ হয়ে আসছে। কিন্তু সেচের পরিকাঠামো, বন্যপ্রাণীর হানা রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত না হলে এই ঐতিহ্যবাহী চাষ থেকে কৃষকদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ভবতোষ সরকার, গৌতম ওরাওঁ ও সন্তোষ বর্মণদের দাবি, সেচের উপযুক্ত ব্যবস্থা এবং হাতির হানা থেকে ফসল রক্ষার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে দুরামারিতে কালো নুনিয়ার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।তাঁদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সরকারি উদ্যোগের অভাবেই কৃষকরা উৎসাহ হারাচ্ছেন।
কৃষক সভার বানারহাট ২ নম্বর ব্লক কমিটির সম্পাদক পঞ্চানন রায় বলেন, “এখানকার মাটি ও আবহাওয়া নুনিয়া ধান চাষের পক্ষে অনুকূল।কিন্তু সেচের তীব্র সমস্যায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে এই চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সমস্যার সমাধানে আমরা ইতিমধ্যেই ব্লক প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছি।”
অন্যদিকে, বানারহাটের বিডিও জানিয়েছেন, সমস্যা সমাধানের জন্য বন দফতর ও সেচ দফতরের সঙ্গে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা করা হচ্ছে। তবে কৃষকদের দাবি,আলোচনা নয় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেচের সমস্যা মেটানো, হাতির হানা থেকে ফসল রক্ষা এবং উৎপন্ন ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে।তবেই কালো নুনিয়া চাষের ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব হবে।
Black Nunia Cultivation
সেচের অভাব, হাতির হানায় বিপর্যস্ত কালো নুনিয়া চাষ
×
Comments :0