Microfinance

ফের মাইক্রোফিনান্সের জালে দুর্গাপুরে আত্মঘাতী গৃহবধু

জেলা

মাইক্রোফাইন্যান্স বা ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে পড়ে ঋণগ্রহীতাদের আত্মহত্যার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও স্পর্শকাতর সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষ এবং গ্রামীণ মহিলারা স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় এই ঋণ নিয়ে পরবর্তীতে চক্রবৃদ্ধি সুদ ও ঋণের কিস্তি পরিশোধের প্রচণ্ড চাপে চরম পথ বেছে নিচ্ছেন। মাইক্রোফিনান্সের ঋণের ফাঁসে ফের আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধু। এই ঋণের পোষাকী নাম ‘বউ বন্ধকী ঋণ’। সেই ঋণ নিয়ে দুর্গাপুরের মামড়া বাজারের এক গৃহবধু গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের এনটিএস থানার মামড়া বাজারে বাপেরবাড়িতে এই গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে তাঁকে ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাঁকে দুর্গাপুরের বিধাননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের লোকজন। সেখানেই বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মারা যান। মৃতার নাম রাজিবা খাতুন(২৪)। পশ্চিম বর্ধমানেরই লাউদহ থানা এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি। তিনি স্বামীর সঙ্গে বাপেরবাড়িতে থাকতেন। তিনি দুটি মাইক্রোফিনান্স থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে টোটো কিনেছিলেন। অভিযোগ সেই লোনের কিস্তির জন্য গৃহবধুকে হুমকি, ভয় দেখানো ও অপমান করে মাইক্রোফিনান্সের বাউন্সার’রা। অনেক মানুষের সামনে চরম লাঞ্চিত, অপমানিত হয়ে গলায় দড়ি দিয়েছেন ঋণগ্রস্ত গৃহবধু এমনটাই দাবি করেছেন তাঁর বাপেরবাড়ির লোকজন। ঘটনার বিষয়ে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে পুলিশ। 
তৃণমূলের শাসনে গতত ১৫ বছরে রাজ্যে একাধিক অঞ্চলে মাইক্রোফিনান্সের ঋণের ফাঁসে একাধিক গৃহবধু আত্মঘাতী হয়েছেন এমনটাই অভিযোগ। শাসকদলের মদতেই এই সুদের কারবারীরা গ্রামের মহিলাদের চড়া সুদে ঋণ দিয়ে গলায় গামছা দিয়ে সেই টাকা আদায় করেছে। ঋণ শোধ করতে না পেরে বহু মহিলা আত্মঘাতী হয়েছেন, গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন। সরকার বদলেছে কিন্তু সুদের কারবারীদের অত্যাচার বন্ধ হয়নি। আত্মঘাতী মহিলার বাপেরবাড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে, টোটো কেনার জন্য তিনি ও তাঁর স্বামী দু’টি বেসরকারি ঋণদান সংস্থা থেকে লোন নিয়েছিলেন। লোনের কিস্তির টাকা এবার জোগার করতে পারেননি তাঁরা। ঘটনার দিন ঋণদান সংস্থার লোকজন তাগাদায় এসে হুমকি, ভয় ও অপমানসূচক মন্তব্য করেন। মৃতার মা মমতাজ বেগম বলেন, মেয়ে ও জামাই টোটো কেনার জন্য বেসরকারি সংস্থা থেকে টাকা ধার করেছিল। কিস্তির টাকা দিতে না পারায় বেসরকারি সংস্থার লোকজন ঘটনার দিন বাড়িতে এসে মেয়েকে চরম হুমকি ও ভিটে ছাড়ার অপমান করেন বলে অভিযোগ। তার জেরেই মেয়ে আত্মঘাতী হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment