CITU Rudrapur

উত্তরাখণ্ডেও দমন পুলিশের, ধর্মঘটী শ্রমিকদের পাশে সিআইটিইউ

জাতীয়

রুদ্রপুরে ভি-গার্ড কারখানায় মহিলা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলছেন এলামরাম করিম সহ সিআইটিইউ নেতৃনৃন্দ।

সেই দিনের পর দিন শ্রমিকদের অস্থায়ী করে রাখা। সেই ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম হারে বেতন দেওয়া। নয়ডার মতো উত্তরাখণ্ডের উধম সিং নগরেও রুষে উঠেছেন ভি গার্ড কারখানার শ্রমিকরা। 
ধর্মঘট চালাচ্ছেন প্রায় তিন হাজার শ্রমিক। গত সোমবার তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছেন সিআইটিইউ’র শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। 
জেলা শাসক সময় দিয়েও দেখা করতে টালবাহানা চালাচ্ছিলেন। সিআইটিইউ’র সাধারণ সম্পাদক এলামরাম করিমের নেতৃত্বে শ্রমিক নেতারা বসে পড়েন ধরনা অবস্থানে। জেলশাসকের দপ্তর না ছাড়লে গ্রেপ্তারির হুমকি দেয় রাজ্যের বিজেপি সরকারের পুলিশ। 
শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং শ্রম আধিকারিকরা বৈঠকে বসতে বাধ্য হন। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আশ্বাস দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
এপ্রিল গোড়ার দিকে নয়ডা সহ দিল্লি সংলগ্ন একের পর এক শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিক বিক্ষোভ। উত্তর প্রদেশ এবং হরিয়ানার একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ দমাতে নিরাট পুলিশবাহিনী নামিয়ে দেয় দুই রাজ্যেরই বিজেপি সরকার। এমনকি শ্রমিকদের বাড়ি থেকে তুলে এনে বেআইনি আটক করা হয়। মহিলাদের ওপর চলতে থাকে নির্যাতন। 
উত্তর প্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরে বিশদ অভিযোগ জানাতে গিয়ে এমনই ধরনা অবস্থানে বসতে হয়েছিল সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি সহ প্রতিনিধিদলকে। 
উত্তর প্রদেশের মতো এ রাজ্যের বিজেপি সরকারও শ্রমিকদের আন্দোলন গায়ের জোরে ভেঙে দিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এখানেও আন্দোলনরত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে সিআইটিইউ। 
সিআইটিইউ’র সাধারণ সম্পাদক এলামারাম করিম, সর্বভারতীয় নেতা কে এন উমেশ, উত্তরাখণ্ডের রাজ্য সভাপতি এম পি ঝাকমোলা, রাজ্য সম্পাদক রাজেন্দ্র সিং নেগি সহ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে প্রতিনিধিদল দেখা করেন কারখানা শ্রমিকদের সঙ্গে। 
উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরের এই কারখানায় অভিযোগ নয়ডার মতোই। স্থায়ী পদে নিয়োগ করা হয় না শ্রমিকদের। অস্থায়ী হিসেবে দিনের পর দিন করিয়ে যাওয়া হচ্ছে কাজ। মজুরির হার অত্যন্ত কম।   
রুদ্রপুরের এই কারখানায় প্রায় ৩ হাজার ঠিকা শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই কমবয়সি মহিলা। কারখানায় একজনও স্থায়ী কর্মচারী নেই। তাঁদের মজুরি ভয়াবহভাবে কম, মাসে মাত্র ৯ হাজার টাকা। সিআইটিইউ’র অভিযোগ, কারখানার মালিকরা ন্যূনতম মজুরি সহ অন্যান্য শ্রম আইন লঙ্ঘন করছে। অথচ প্রশাসনের তরফে এ নিয়ে কোনোরকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। উলটে ভি-গার্ড কারখানার শ্রমিকরা শ্রম আইন লঙ্ঘনের প্রতিবাদে সরব হলে বিজেপি সরকারের পুলিশ মালিকদের পক্ষ নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে, ঘাড়ধাক্কা দিয়ে তাঁদের কারখানার গেটের বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে। অনেককে আটক করা হয়েছে। তারপর থেকে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের কারখানা চত্বরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। 
রুদ্রপুরের এই কারখানা ‘ভি-গার্ড ইলেকট্রনিকস’-এ স্টেবিলাইজার, ইনভার্টার ও পিসিবি তৈরি করা হয়। 
সিআইটিইউ’র অভিযোগ, উধম সিং নগরের জেলাশাসক একেবারে কারখানার এজেন্টের ভূমিকা নিয়েছেন। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারটুকু তিনি নিশ্চিত করতে রাজি নন। এদিকে কারখানার মালিকদের বেআইনি আচরণে তিনি নির্লজ্জের মতো মদত জোগাচ্ছেন। 
দিল্লির সিআইটিইউ নেতা বীরেন্দ্র গৌড় বলেছেন, নয়ডা সহ শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলন জাত এবং ধর্মের বিভাজনকে হারিয়ে দিয়েছে। মজুরি শোষণই এককাট্টা করেছে শ্রমিকদের। সচেতন শ্রমিক আন্দোলন তাঁদের হকের পাওনা বুঝে নিতে পুলিশের নিপীড়নের মোকাবিলা করেছে। 
উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরের ভি-গার্ড কারখানাতেও দেখা যাচ্ছে শ্রমিকদের সেই জেদি ঐক্য।

Comments :0

Login to leave a comment