সাহিদা ফকিরের পরিবারকে নাগরিকত্ব প্রমাণের আরও একবার সুযোগ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। মামলার শুনানিতে পরিবারকে নাগরিকত্ব প্রমাণে জন্য আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে বলেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি আর্যক দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ। ২৬ নভেম্বর মামলার শুনানির সম্ভাবনা। উত্তর ২৪পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫৬নং বুথের বাসিন্দা সাহিদা ফকির। গ্রামে কাজের তীব্র হাহাকার। অভাবের তাড়নায় ছুটে বেড়াতে বেড়াতে একসময় নবি মুম্বাইতে স্বামী জুম্মানের সাথে গাড়ি ধোয়ার কাজে সাহিদা চলে যায়। এরপর কাজ নেয় গৃহ পরিচারিকার। মুম্বাইয়ে বাজার করতে গিয়ে মুম্বাই পুলিশ গত ১৯ জুলাই তাঁকে আটক করে ধরে নিয়ে যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তারপরে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখে। বাংলাদেশী বলে ২৩ জুলাই মুম্বাইয়ের পুলিশ আসাম সীমান্ত দিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। এরপর স্ত্রীর নাগরিকত্বের প্রমাণ পেশের সুযোগ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন স্বামী জুম্মান। তাঁর দাবি, সাহিদার বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। এমনকী, তার দাদুর নামও ১৯৫২ সালের ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত ছিল। সাহিদার নাম এসআইআরে বাদ পড়েছে এবং তাঁর নাম ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন বলেও দাবি করা হয়েছে। পরিবারের কাছে ১৯৫২, ১৯৭১ ও ২০০২ সালের ভোটার তালিকা, জমির নথি, আধার কার্ড, রেশন কার্ড সহ একাধিক নথি রয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছেন জুম্মান। ওই নথির ভিত্তিতে নাগরিকত্বের দাবি প্রমাণের সুযোগ চেয়েছে পরিবার। নাগরিকত্বের প্রমাণ পেশে আরও একবার সুযোগ পেলেন বসিরহাটের স্বরূপনগরের পরিযায়ী শ্রমিক সাহিদা ফকিরের পরিবার। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি আর্যক দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ উভয় পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। ২৬ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা।
Calcutta High Court
বাংলাদেশে পাঠানো সেই সাহিদাকে নথি দিতে বলল কলকাতা হাইকোর্ট
×
Comments :0