পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় গৃহীত নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে রাজ্যের সিইও দপ্তর। বিষয়টি নাকি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাতেই আনা হয়নি।
মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলফনামায় এমনই যুক্তি দিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। এসআইআর-এর বিষয়ে নির্বাচনে কমিশনে সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়নি অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের আবেদনে এই হলফনামা দিয়েছে কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পর্বে ভোটার তালিকা তৈরি জন্য সুপ্রিম কোর্টকে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিচারপতিদের নিয়োগ করতে হয়েছিল। গড়তে হয়েছিল ট্রাইবুনালও। ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি’-র ভিত্তিতে বাদ নামের ৩২ লক্ষ ফিরেছিল তালিকায়। তার মধ্যে ১৬ লক্ষ নামে আপত্তি জানিয়ে ট্রাইবুনালে নাম বাদের আবেদন দায়ের করা হয় কমিশনের তরফে। জ্ঞানেশ কুমারের দিকে আঙুল তুলে পাঠানো দুই আলাদা চিঠিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিবকে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। এসআিআর পর্বে রাজ্যে কমিশনের সিইও মনোজ আগরওয়াল এখন রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে আসীন। তিনি অন্যান্য বিভিন্ন সময়ে যদিও দিল্লির নির্দেশকেই দেখিয়ে এসেছেন।
হলফনামায় দাবি করা হয়েছে যে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনে কোনও মতবিরোধ ছিল না। এ সংক্রান্ত তিনটি বিজ্ঞপ্তিই জারি হয়েছে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। আরও বলা হয়েছে যে একটি পত্রিকা (ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস)-র একটি প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে এই আবেদন সুপ্রিম কোর্টের দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তারিখ ধরে দেখানো হয় যে কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে ১০ মাসে ১৪ বার চিঠি দিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবিন্দর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী। দুই কমিশনারের এই চিঠিকে অস্বীকার করতে পারেনি কমিশন। তবে তাকে আনুষ্ঠানিক আপত্তি না দেখিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া দেখানোর চেষ্টা করেছে হলফনামায়।
হলফনামায় কমিশনকে স্বীকার করতে হয়েছে যে ফর্ম -৬ পরিবর্তন নিয়ে সমস্যা ছিল। তবে যুক্তি দেওয়া হয়েছে নাম তোলার আবেদনের ওই ফর্মে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়াকে সংশোধন বলা চলে না। নির্বাচন নথিভুক্তি বিধি অনুযায়ী ফর্ম-৬ বদলানোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকার না নিলে কমিশন তা চালু করতে পারে না। এসআইআর প্রক্রিয়ার মাঝেই ফর্ম-৬ দিয়ে অনলাইনে আবেদনের পদ্ধতিতে সম্পর্কিত কারও নাম আগের ভোটার তালিকায় থাকা সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়।
তবে প্রবল বিক্ষোভের জেরে ফর্ম-৬’র সেই বদল আপাতত বাতিল করতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। সুপ্রিম কোর্টকে সে কথা জানিয়ে বলা হয়েছে যে এসআইআর-এ ‘ম্যাপিং’ না হওয়ার কারণে নাম বাদ পড়ার ক্ষেত্রে আর নিজেদের সরাসরি শুনানিতে হাজির হতে হবে না। বিএলও-রাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য জোগার করে আনবেন।
উল্লেখ্য, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠায় এসআইআর পর্বে জারি নির্দেশিকার কয়েকটি ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে কমিশন। তবে ফের আইনি ভিত্তি ছাড়াই এমন পদক্ষেপের আশঙ্কায় রাস্তায় থাকার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন বিরোধীরা।
SIR Gyanesh Kumar SC
রাজ্যে নাম বাদের জন্য ট্রাইবুনালে আবেদনের দায় সিইও’র ওপর চাপালেন জ্ঞানেশ কুমার
×
Comments :0