ঠিক কোন পরিস্থিতিতে গাইঘাটা ধর্ষণ খুনে অভিযুক্ত পুলিশের রিভলবার ছিনিয়ে নিয়েছিল তার তদন্ত হবে। যে গাড়িটি করে তাকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেটিরও ফরেনসিক পরীক্ষা হবে। তদন্তে যুক্ত এক আধিকারিকের বক্তব্য এ কথা বলেছেন সংবাদসংস্থাকে।
ওই আধিকারিক আরও জানান যে পুলিশকর্মীদের কারও বড় আঘাত লাগেনি। তবে গাড়িটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে গাইঘাটায় স্থানীয় স্তরে দাবি উঠেছে যে ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করে বিচারব্যবস্থার সামনে হাজির করতে হবে। এনকাউন্টারের পর এমন মারাত্মক অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া যেন চাপা না পড়ে যায়।
বুধবার ভোররাতে গাইঘাটা খুন ও ধর্ষণের অভিযুক্ত ‘এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে’ বলে দাবি করেছে পুলিশ। জানানো হয়েছে যে এনকাউন্টারের পর অভিযুক্তকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে রাত ২.৫০ নাগাদ এনকাউন্টার হয়।
এদিকে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ‘এক্স’-এ পোস্ট করে বলেছেন, বারুইপুরের মতো চিত্রনাট্য। এমন অপরাধে তদন্ত এবং বিচারের নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। উত্তর প্রদেশের অনুকরণে এনকাউন্টার হত্যা হচ্ছে। কিন্তু উত্তর প্রদেশের মতোই পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে।
গত রবিবার ক্লাস ইলেভেনের এক ছাত্রী ভয়াবহ অপরাধের শিকার হয়। স্থানীয় একটি জলসা দেখতে গিয়েছিল সে। রবিবার ভোরে তার দেহ মেলে এক প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে। নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন ছিল তার সারা দেহে।
(আরও দেখুন: ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ গাইঘাটায়)
ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ। সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং শাস্তির দাবি জানিয়ে স্থানীয় থানায় ডেপুটেশন দেয়। সিপিআই(এম)’র গাইঘাটা পূর্ব এরিয়া কমিটির সম্পাদক আশিস সরকার বলেছেন, বুধবারই থানার সামনে বিক্ষোভ হওয়ার কথা ছিল। সেই কর্মসূচি পুলিশকে জানাতে যাওয়া হয় মঙ্গলবার। সে সময় থানা থেকে বেরতে দেখা যায় বিজেপি’র স্থানীয় বিধায়ককে। জানা গিয়েছে কোনও অনুষ্ঠানে থানায় এসেছিলেন তিনি। তার আগে থানায় যান বিজেপি’র একাধিক নেতা। তিনি বলছেন, ‘‘এই অপরাধে একজনের বেশি যুক্ত বলেই অভিযোগ উঠেছে। খুন-ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধে তীব্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে এলাকায়। অপরাধে জড়িত প্রত্যককে বিচারব্যবস্থার সামনে হাজির করে শাস্তি দিতে হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘এর আগে বারুইপুরে খুন-ধর্ষণ কাণ্ডে এনকাউন্টার হয়েছিল। তারপরও এমন অপরাধ হলো গাইগাটায়। রাজ্যে মহিলাদের ওপর নিগ্রহের বহু ঘটনা সামনে আসছে। প্রত্যেক অপিরাধীকে বিচারব্যবস্থার সামনে হাজির করিয়ে শাস্তি দিতে হবে।’’
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে বারুইপুরে ধর্ষণ-খুন কান্ডে অভিযুক্তদের একজন প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু এনকাউন্টারে হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। সেই ক্ষেত্রেও ঘটনার পুনর্নিমাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বারুইপুরে স্থানীয় বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডলের বিরুদ্ধে অপরাধীদের আড়ালের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এই শান্তনুর শাস্তির দাবিও জানান ওই এলাকার মানুষ।
গাইঘাটায় গত রবিবারের অপরাধে প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিন পুলিশের বক্তব্য, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সে শৌচকর্মের জন্য গাড়ি দাঁড় করাতে বলে। সে সময়েই এক পুলিশকর্মীদের রিভলবার কেড়ে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার জন্য পালটা গুলি চালায় পুলিশ। সে সময় মৃত্যু হয় অভিযুক্তের। মৃতের দেহ পাঠানো হয়েছে ময়না তদন্তের জন্য।
Comments :0