SIR Quraishi

বৈধ ভোটার বাদ পড়লে ভোটের বৈধতাই থাকে না

জাতীয় বাংলা বাঁচানোর ভোট

 এই ভোটের বৈধতাই থাকে না। ভোটার তালিকা যাচাই করতে না পারা সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের ব্যর্থতা, তার দায়ভার সাধারণ নাগরিকদের ওপর কিছুতেই চাপানো যায় না। ভারতের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশির কথায়, লক্ষ লক্ষ মানুষকে তালিকার বাইরে রেখে নির্বাচন সম্পন্ন করলে তার বৈধতা ও নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে। কুরেশি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের অসংখ্য যোগ্য ভোটার প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে আসন্ন নির্বাচনে ভোটদান থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী। বর্তমান সঙ্কট সামলাতে তাঁর সুচিন্তিত প্রস্তাব হলো যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় ঝুলে থাকা ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। কুরেশির মতে, একজন যোগ্য ভোটারও যদি ভোটাধিকার হারান, তাহলে তা দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য একটি বড় কলঙ্ক হিসাবে বিবেচিত হবে। নিউজ পোর্টাল ‘দ্য ওয়ার’-এর তরফে বিশিষ্ট সাংবাদিক করণ থাপারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অকপটেই তাঁর মতামত জানিয়েছে। 
বাংলায় প্রথম দফার ভোটের আগে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল কাজই শুরু করেনি। যাচাই প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকায় তাঁদের ভোটাধিকার অনিশ্চিত। বহু কিংবা হাজার হাজার যোগ্য ভোটার যদি শুধু যাচাই শেষ না হওয়ার কারণে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে তা হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ত্রুটি। ফলে ভোটটাই তো ‘অন্যায্য’ হয়ে যাবে। কুরেশির সোজাসাপ্টা মন্তব্য, এমন পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কমিশন কি শপথনামা দিয়ে বলতে পারবে, “একজনও যোগ্য ভোটার বাদ পড়েননি”?
প্রশ্ন ছিল, প্রশাসনিক অদক্ষতায় যদি সময় ফুরিয়ে যায় এবং যাচাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় বহু যোগ্য ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েন তাহলে কি তা অসাংবিধানিক? প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কুরেশির স্পষ্ট জবাব, “হ্যাঁ, অবশ্যই। তাতে নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”
কুরেশি বলেন, সংবিধানের ৩২৬ অনুচ্ছেদ ভোটাধিকারকে নিশ্চিত করেছে। প্রশাসনিক দেরি বা ব্যর্থতার কারণে এই অধিকার কোনোভাবেই কেড়ে নেওয়া যায় না। যাচাই করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, কিন্তু সময়মতো তা শেষ না হলে ভোটারকে কিছুতেই শাস্তি দেওয়া যাবে না। তিনি বলেছেন, ‘যাচাই’ করা যায়। কিন্তু “অধিকার থেকে বঞ্চিত” করা যায় না। অর্থাৎ, আবেদন বিচারাধীন থাকলে সেই ভোটারকে অযোগ্য বলা যাবে না।
প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এই সমস্যা সমাধানের নির্দিষ্ট প্রস্তাবও দিয়েছেন। তাঁর মতে, যাদের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে, তাদের জানুয়ারি ২০২৫-এর যে ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, “একজন ভোটারও যদি অন্যায়ভাবে বাদ পড়েন, সেটা নীতিগত প্রশ্ন।” তাঁর মতে, ভোট একবার হারালে তা ফেরানো যায় না—ক্ষতি চূড়ান্ত। এই পরিস্থিতি গণতন্ত্রে “কালো দাগ” হয়ে থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
কুরেশি বলেছেন, সংখ্যা নয়, নীতিই আসল। ১০ জন হোক বা ১০ লক্ষ, যোগ্য ভোটার বাদ পড়া মানে নির্বাচনই কলঙ্কিত। প্রশাসনের ভুলে ভোটার শাস্তি পেলে, গণতন্ত্রের ভিত্তিই কেঁপে যায়।

Comments :0

Login to leave a comment