NATUNPATA | MONDA MITHI | SHARADA PRATE | TANUSREE DAS | 11 OCTOBER 2026 | 4th YEAR

নতুনপাতা | মণ্ডা মিঠাই | আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জীর... | তনুশ্রী দাস | ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

নতুনপাতা/মুক্তধারা

NATUNPATA  MONDA MITHI  SHARADA PRATE  TANUSREE DAS  11 OCTOBER 2026  4th YEAR

নতুনপাতা

মণ্ডা মিঠাই

আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জীর...

তনুশ্রী দাস

১১ অক্টোবর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ 

বাঙালির সবচেয়ে বড়ো উৎসব দুর্গা পুজো। পুজো মানে বাঙালির এক আবেগ, এক ভালোবাসা।আর গ্রামের মেঠো পথের  দু-পাশে কাশফুল, বাতাসে শিউলি ফুলের গন্ধ, বাড়িতে আত্মীয় ও ভাইবোনদের সঙ্গে হইহুল্লোড় মজা। বাবা, মার ব্যস্ততা, সারাবছর থেকে একটু আলাদা এই ব্যস্ততা যেন মনকে উল্লসিত করে।

আর আমাদের কাছে ‘ছুটি’, সারাবছরের ওই একঘেয়েমি আর বন্ধ ক্লাসরুমের থেকে মুক্তি। বাবা-মার বাধ্য সন্তানরাও যেন অবাধ্য হয়ে ওঠে সেই পাঁচ দিন। বই-খাতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। রাতে প্যান্ডেলে গিয়ে সেই মাটির প্রতিমার সামনে সব বন্ধুরা মিলে গল্প, ছোটাছুটি, খেলা করতাম। ঢাকার শব্দে  বুকের ভেতরটা যেন কেঁপে উঠতো। গ্রামে ভোরে গায়ে লাল পাড় পরে যখন ঢাক বাজতো তখন মনে হয় যেন এক আবেগের সুর। আর পুজোয় সেই পুরোনো দিনের  গান।  সারা বছর না হলেও  পুজোর ওই পাঁচটা দিনে গানগুলো এক সঠিক মানে খুঁজে পেতো। আমরা মন দিয়ে গান শুনতাম।

আর মহালয়ার ভোর, রেডিওতে বেজে উঠতো সেই অমোঘ কণ্ঠস্বর — “আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জীর...” বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ওই গানগুলো শুনলে আমাদের গায়ে কাঁটা দিত। মনে হতো, সত্যিই মা দুর্গা আসছেন।

আজ মহালয়ার পরে সাতদিন কেটে গেল কিন্তু পুজো বলে মনেই হয় না।অর্ণব অনেকক্ষণ  জানলার পাশে দাঁড়িয়ে ওই পুরোনো দিনের কথাগুলো ভাবছিল। হঠাৎ তার ভাগ্নি ডাকলো — “মামা তুমি নীচে যাবে না, অনেকক্ষণ ধরে মা ডাকছে” অর্ণবের দিদির একমাত্র অদূরে মেয়ে উমা ,ও অর্ণবের ও খুব কাছের আর ভালোবাসার।
অর্ণব বলল "তুই যা আমি যাচ্ছি" উমা তখনও দাঁড়িয়ে আছে অর্ণব জিজ্ঞাসা করলো " কিছু বলবি" উমা অদূরে সরে বলতে লাগলো " মামা আমায় আজ ঠাকুর দেখতে নির্জাবে ? " মা বাবা খুব ব্যস্ত আজ যাবে না বলছে । অর্ণব ও বলল আমার অনেক কাজ রে আমি আজ যেতেই পারবোনা । উমা কিছু না বলে মনখারাপ চলে গেলো । অর্ণব নিচে খাওয়া সেরে উপরে নিজের ঘোর গিয়ে  ল্যাপটপটা নিয়ে অফিসের কিছু কাজ নিয়ে বসলো। হঠাৎই বাইরে থেকে ঢাকার আওয়াজ শুনে অর্ণব ভাবলো সত্যি সে এত ব্যস্ত,  যে পুজোর আনন্দ অনুভব করতে পারছে না । সে হয়তো সত্যি তার ছোটো বালাকে হারাতে বসেছে । সাই ঢাকার আওয়াজ শুনে সে বাইরে বেরিয়ে আলো । দেখলো উমা বাইরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে বাইরে যে দিক দিয়ে ঢাকার আওয়াজ আসছে সেই দিকে । অর্ণব উমাকে বলল "চল আজ তোকে নিয়ে ঠাকুর দেখে আসি ," উমা জিজ্ঞাস করলো "আর তোমার কাজ " সে বলল ও কাজ পরে হবে ক্ষণ।  
তারা সন্ধ্যে বাড়িয়ে পড়ল ঠাকুর দেখতে রাস্তায় কত আলো, মণ্ডপে গান বাজছে , অর্ণব দেখছে ছোটো ছোটো বাচ্চা গুলো মণ্ডপে এক পাশে চিয়ারে বসে ফোন দেখছে । ঢাকার কোনো শব্দ নেই । কিছুক্ষণ পর কয়েকজন বন্ধুরা আসে ঠাকুর না দেখে শুধু ছবি তুলতে ব্যস্ত  । তাদের কথোপকথনে জানা যায় তারা নাকি এই ছবি ফেসবুক , ইনস্টাগ্রামে  পোস্ট করবে । অর্ণবের মনটা জন্য বেশি খারাপ হয়ে যায় । তার মনে হলো বর্তমান পরিস্থিতিতে আনন্দ যেন ফোন, সসালমিডিয়া, লাইক কমেন্ট এর মধ্যে সীমাবদ্ধ । অর্ণব অনুভব করলো এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী শুধু ওই বাচ্ছাগুলো নয় দায়ী তার মতো কিছু মানুষ । যারা নিজেরাই ব্যস্ত । 
উমা ওসব কিছু লক্ষ করছে না সে একভাবে দেখছে সাই মাটির তৈরি প্রতিমার দিকে । তার কাছে পুজো মনে এখনও সাই ঢাকার শব্দ , নতুন জামা , আর মামার হাত ধরে ঠাকুর দেখা । মোবাইলের স্ক্রিন নয়।

দশম শ্রেণী
ক্যানিং দ্বারিকানাথ বালিকা বিদ্যালয় ক্যানিং, দক্ষিণ ২৪ পরগনা - 7501602653


 

Comments :0

Login to leave a comment