West Bengal Assembly Election 2026

বাম প্রার্থীর সমর্থনে পুরুলিয়ায় এসএফআই’য়ের মহামিছিল

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

ভাস্কর দাশগুপ্ত: পুরুলিয়া
সব দুর্নীতিবাজ মিলে তৃণমূল দলটা তৈরি হয়েছে। সেখানে সব চোরদের সহাবস্থান। আকাশের নিচে যা আছে সব খেয়ে নেয় তৃণমূল। এই তৃণমূলকে তাড়াতেই হবে। তাড়াবে বাম। তাই আগামী নির্বাচনে পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিআই(এম) প্রার্থী ছাত্র নেতা সায়ন্তন ঘোষকে জয়ী করতে হবে। শুক্রবার প্রার্থীর সমর্থনে এসএফআই রাজ্য কমিটির উদ্যোগে পুরুলিয়া শহর জুড়ে মহা মিছিল সংঘটিত হয়। তারপর ট্যাক্সি স্ট্যন্ডে এক সভায় বক্তব্য রাখেন এসএফআই সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য, সর্বভারতীয় নেত্রী ঐশী ঘোষ, রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে, গণ-আন্দোলনের নেতা বিমলেন্দু কোনার, প্রার্থী সায়ন্তন ঘোষ। সভাপতিত্ব করেন পবিত্র ব্যানার্জি। সভা শুরুর আগে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের পলাশ শাখার পথনাটিকা অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে ছাত্র যুব  ছাড়াও বহু সাধারণ মানুষ পা মিলিয়েছেন। 
নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, এসএফআইয়ের ছেলে ভোটে দাঁড়িয়েছে। দায়িত্ব সবার। এসএফআইয়ের প্রাক্তনীরাও ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। তিনি বলেন, হিন্দু মুসলমান মন্দির মসজিদ বেশি করে হচ্ছে। মানুষকে মুরগি বানানো হচ্ছে। বিজেপি হিন্দু ধর্মকে বেচে দেবে। বিজেপির সংস্কৃতি মানে বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া। বিজেপি বাংলার পার্টি নয়। বিজেপি মানে সংবিধান বিরোধী। তিনি বলেন , বিজেপি সব ঠাকুরকে নিয়ে রাজনীতি করেনা। শুধুমাত্র রামকে নিয়েই রাজনীতি করে। বিজেপিকে দিয়ে তৃণমূলকে হটানো যাবে না। বিজেপি মানে ইদুর মারার বিষ। আর তৃণমূল হচ্ছে দুর্নীতিবাজ। পদ্ম ফুলের তলায় রয়েছে সাপ। জোড়া ফুলের বিষ তাড়াতে কাস্তে নাও হাতে। মানুষ খুব কষ্টে আছে এই সময়। এসএফআই এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে তার বক্তব্যে বলেন, এখন যিনি পুরুলিয়ার বিধায়ক তিনি হচ্ছেন তৃণমূলের ডামী প্রার্থী। বিধানসভায় তিনি কোনদিন পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের জন্য কথা বলেননি। রসাতলে চলে যাচ্ছে রাজ্য। শিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়েছে। পুরুলিয়া জেলা স্কুলের মত পুরনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ শিক্ষকের অভাব রয়েছে। শিক্ষকের অভাবে বহু স্কুল বন্ধ হয়ে আছে। পুরুলিয়া শহরের জগন্নাথ কিশোর মহাবিদ্যালয় এবং নিস্তারিণী মহিলা মহিলা মহাবিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা কমেছে। এ জেলার ছেলেদের ভবিষ্যৎ হচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিক হওয়া। বাংলায় কোন কাজ নেই। সময় ঘুরছে। খেলা ঘুরছে। লাল ঝান্ডা ফিরছে। তিনি বলেন, বিজেপিকে আমদানি করেছে তৃণমূল। লেখাপড়ার পুনরুদ্ধার করতে হবে, কর্মসংস্থানকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। আর সেটা হবে একমাত্র বাম প্রার্থীর জয়ে। ঐশী ঘোষ তাঁর বক্তব্যে বলেন, মানুষ পথে নেমে প্রতিবাদ করছে। দুর্নীতির সরকার আর মানুষ চায়না। সরকারী স্কুল বন্ধ করে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে বেসরকারি স্কুল। সেখানে পড়াশোনার খরচ সাধারণ মানুষের সীমার বাইরে। বেকার ছেলেমেয়েরা কাজ চাইছে। এই রাজ্যে কাজ নেই। তাই ভিন রাজ্যে কাজের সন্ধানে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বিজেপি গরিবের নয়, খেটে খাওয়া মানুষের নয়। বাংলা সংস্কৃতি নষ্ট করতে এসেছে ওরা। বিধানসভায় মানুষের কথা বলার মত প্রার্থীকেই জয়ী করতে হবে। সেই লক্ষ্যে সায়ন্তন ঘোষক জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি। সবার শেষে সভাস্থানের পাশে ডি আর আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করে ছাত্র নেতৃত্ব।

Comments :0

Login to leave a comment