G RAM G in Bengal

জি রামজি’তে দেশে সবার পিছনে এরাজ্য!

রাজ্য

 জি রামজি’তে গ্রামবাসীদের কাজ দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ দেশে সবার পিছনে। 
গত ১ জুলাই বছরে এই আইন মোতাবেক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। তার আগে মহা আড়ম্বরে ঘোষিত হয়েছিল ‘বিকশিত ভারত—  গ্যারান্টি ফর রোজগার এবং আজীবিকা মিশন-গ্রামীণ’ (ভিবিজি রামজি)-র কথা। এই আইন মোতাবেক বছরে ১২৫দিন কাজ পাওয়ার কথা জবকার্ডধারীদের। বছরে চাষের মরশুমে দু’দফায় ৬০ দিন বন্ধ থাকে জি রামজি’র কাজ। অর্থাৎ ৩০৫ দিনের মধ্যে ১২৫ দিনের কাজে বন্দোবস্ত করবে কেন্দ্র, রাজ্য সরকার— প্রতিশ্রুতি এমনই। ইতিমধ্যে ১১৬ দিন পেরিয়েছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে গত ১৫ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট— ২৫ দিন চাষের জন্য কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। 
অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে এই নতুন আইনে কর্মদিবস ছিল ৯১। কিন্তু গ্রামবাসীরা গড়ে কাজ পেয়েছেন ৬.৯১ দিন। রাজ্যে ৩৩৩৯টি পঞ্চায়েত। চলতি মাসে ২৪২২টি পঞ্চায়েতে কোনও কাজই হয়নি জি রামজি’তে। শুধু তাই নয়, গত ১ জুলাই থেকে চালু হলেও রাজ্যে এমন ৬৩টি পঞ্চায়েত আছে যেখানে এখনও জি রামজি’র কোনও কাজ হয়নি। 
রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত এলাকা মিলে দেশের ৩৩টি ভূখণ্ডে চালু আছে জি রামজি। এই প্রকল্পে জবকার্ডধারী গ্রামবাসীদের কাজ পাওয়ার কথা। প্রথম ইউপিএ সরকারের সময়কালে বামপন্থীদের চাপে শুরু হয়েছিল রেগা। যে আইন মোতাবেক বছরে একশো দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। সেই আইন সংশোধন করে নরেন্দ্র মোদীর সরকার জি রামজি চালু করে। চলতি আর্থিক বছরে দেশে গ্রামবাসী পরিবারগুলি গড়ে কাজ পেয়েছেন ১৯.৮১ দিন। শীর্ষে আছে লাদাখ— ৩৫.৮১ দিন। দ্বিতীয় স্থানে আছে মহারাষ্ট্র। সেখানে গড়ে ৩১ দিন কাজ পেয়েছেন গ্রামবাসীরা। তৃতীয় স্থানে আছে মধ্য প্রদেশ। সেখানে গ্রামবাসী পরিবারগুলি গড়ে কাজ পেয়েছে ২৫.৭৯ দিন। কোনও রাজ্যেই গড় কাজের দিন আশাপ্রদ নয়। তারই মধ্যে সবার পিছনে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার চালিত পশ্চিমবঙ্গ। 
রাজ্যে সবার পিছনে থাকা জেলার নাম পূর্ব মেদিনীপুর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে জেলার প্রশাসনের গত ১৬-১৭ বছরের ‘হর্তা-কর্তা-বিধাতা’, সেই জেলায় প্রধানমন্ত্রীর ‘বিকশিত ভারত’ ভাবনার আইনে গ্রামবাসীরা গড়ে কাজ পেয়েছেন ৪.৯৩ দিন। সেই পূর্ব মেদিনীপুরের মধ্যে সবচেয়ে কম দিন গ্রামবাসীরা কাজ পেয়েছেন নন্দীগ্রাম-১নং ব্লকে—মাত্র ৩.২৬ দিন। নন্দীগ্রাম-১নং ব্লকের পিছনে আছে জেলার একটিই ব্লক, তা হলদিয়া। সেখানে গ্রামবাসীরা গড়ে কাজ পেয়েছেন ৩.১৫ দিন। নন্দীগ্রাম-১নং ব্লকের একটি পঞ্চায়েত কেন্দেমারি জালপাই। এই পঞ্চায়েতে গত ১ জুলাই থেকে গ্রামবাসীরা গড়ে কাজ পেয়েছেন ১.৬৭ দিন— অর্থাৎ গড়ে ২ দিনেরও কম।
পশ্চিমবঙ্গে জবকার্ডধারী গ্রামবাসী পরিবারের সংখ্যা ১,২৮,৫১,৩৫০। তাদের মধ্যে কাজ পেয়েছে মাত্র ৪,০৬,১১৭ পরিবার। অর্থাৎ জবকার্ডধারী পরিবারগুলির মাত্র ৩.১৬ শতাংশ এখনও পর্যন্ত জি রামজি’তে কাজ পেয়েছে। তাও গড়ে মাত্র ৬.৯১ দিন করে। কী অবস্থা জেলাগুলির কাজের সন্ধানে থাকা পরিবারগুলির তা কয়েকটি জেলার দিকে তাকালেই স্পষ্ট হবে। মুর্শিদাবাদে জবকার্ডধারী গ্রামবাসী পরিবার আছে ১১,১৮,৩৭৩। কাজ পাওয়া পরিবারের সংখ্যা ৯৫৬৬। অর্থাৎ সংখ্যালঘু নিবিড় এই জেলায় জবকার্ডধারী পরিবারগুলির ১ শতাংশেরও কম, ০.৮৬ শতাংশ জি রামজি-তে কাজ পেয়েছে। এই জেলার বেলডাঙা-১নং ব্লক এলাকায় ৫২,৭৩২ জবকার্ডধারী পরিবার থাকলেও কাজ পেয়েছেন মাত্র ৩৬৭ পরিবার, অর্থাৎ ০.৬৯ শতাংশ। মানুষের অসহায়তা এবং সরকারের ব্যর্থতার আর একটি প্রমাণ হতে পারে জলঙ্গী ব্লক। এই ব্লক এলাকায় জবকার্ডধারী পরিবার আছে ৫৪,৪২৯। কাজ পেয়েছে ২৫১ পরিবার। অর্থাৎ জবকার্ডধারী পরিবারগুলির ০.৪৬ শতাংশের কাজ মিলেছে। জলঙ্গীতে দেবীপুর একটি পঞ্চায়েত। এই পঞ্চায়েতে জবকার্ডধারী ৬১৩৬ পরিবারের মধ্যে কাজ পেয়েছে ১০টি পরিবার, অর্থাৎ ০.১৭ শতাংশ! একই ছবি ডোমকলেও। সেখানে ৫৩,৩২৮ জবকার্ডধারী পরিবারের মধ্যে জি রামজি’তে কাজ পেয়েছে মাত্র ৩৮৯ পরিবার। মুর্শিদাবাদ লাগোয়া নদীয়ার অবস্থাও তথৈবচ। সেই জেলায় জবকার্ডধারী গ্রামবাসী পরিবার আছে ৭,২৬,৯৫১। কাজ পেয়েছে ১.৪৫শতাংশ, অর্থাৎ ১০,৪৯৫ পরিবার। বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল করেও জি রামজি’তে খারাপ এই জেলা। যেমন শান্তিপুর। জবকার্ডধারী পরিবার আছে ৪৫,১৩১টি। কাজ পেয়েছে মাত্র ৫৬২। এই ব্লকের বেলগড়িয়া-১ নামের একটি পঞ্চায়েত আছে যেখানে জবকার্ডধারী পরিবার আছে ৪৫৫৩। কাজ পেয়েছে ৫ পরিবার। পূর্ব মেদিনীপুরে জবকার্ড আছে এমন পরিবারের সংখ্যা ৮,৭৫,৮৩৫। কাজ পেয়েছে ১.৪৯ শতাংশ পরিবার—  ১৩,০৪৮। সেই জেলার নন্দীগ্রাম-১ নং ব্লকে ৩৮,৫৬৩ জবকার্ডধারী পরিবারের মধ্যে কাজ পেয়েছেন ১৯৮ পরিবার। আদিবাসী নিবিড় জেলা ঝাড়গ্রাম। সেখানে জবকার্ডধারী পরিবার আছে ২,২৬,৮২২। কাজ পেয়েছে ১৯,৯৭৩ পরিবার, অর্থাৎ ৮ শতাংশের কিছু বেশি। 
রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের এক আধিকারিকের দাবি, ‘‘এই প্রকল্পে কাজের তুলনায় তার ব্যবস্থাপনায় হ্যাপা অনেক বেশি। বিডিও-দের বলা হয়েছে এই কাজে জোর দিতে। কিন্তু সর্বত্র সাড়া মিলছে না। চেষ্টা হচ্ছে। তবে রাজ্যের বেশিরভাগ পঞ্চায়েত নিষ্ক্রীয়। সেটিও একটি কারণ।’’

Comments :0

Login to leave a comment