Arunachal Unrest

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতায় অরুণাচলে জনরোষের মুখে বিজেপি

জাতীয়

বিশ্বজিৎ দাস

 জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অরুণাচল প্রদেশে। বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলায় চার তরুণী সহ অন্তত ১৫ জন জখম হয়েছেন। পুলিশের হামলার প্রতিবাদে পালটা প্রদেশ বিজেপি সভাপতি সহ বিজেপি’র দুই বিধায়কের বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া, থানা,একাধিক সরকারি দপ্তরও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে রাজ্য সরকার। 
রাজ্যের সিয়াং নদীর উপর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রোজেক্ট সংক্ষেপে এসইউএমপি নামে এই প্রোজেক্ট নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ন্যাশনাল হাইড্রোইলেক্ট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশনের হাতে তুলে দিয়েছে কেন্দ্র। প্রোজেক্টটি সিয়াং জেলা অথবা আপার সিয়াং জেলায় তৈরি করার কথা ভেবেছে কর্পোরেশন। এখন সমীক্ষার কাজ চলছে। সমীক্ষার পর ডিপিআর তৈরি হলে ২০২৮ সালে কাজ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু সমীক্ষা চলাকালীন স্থানীয়  আদিবাসীদের জমি থেকে উচ্ছেদ শুরু করে দিয়েছে পেমা খান্ডু নেতৃত্বাধীন অরুণাচলের বিজেপি সরকার।
সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ হলে অরুণাচল প্রদেশের তিনটি জেলা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উজান আসামেও বড়সড় ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, উত্তরপূর্বের সবচেয়ে বড় নদী আসামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ব্রক্ষ্মপুত্র নদী এই সিয়াং নদীর মূল ধারা। স্বাভাবিক কারণেই ব্রক্ষ্মপুত্রের উজানে সিয়াং নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ হলে আসামের বিরাট ক্ষতি হবে। ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়তে হবে অরুণাচল ও আসামের মানুষকে। সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের জন্য অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং,আপার সিয়াং ও পূর্ব সিয়াং জেলা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ ইতিমধ্যে এই তিন জেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আদিবাসীদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি  কেড়ে নিতে শুরু করেছে সরকার৷ তাছাড়া, পরিবেশের বিরাট ক্ষতি হবে। ভূতাত্ত্বিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন এই প্রকল্প নির্মাণ হলে ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়বে। ফলে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে গত মাস থেকে আন্দোলন গড়ে উঠেছে৷ একাধিক ছাত্র সংগঠনের যৌথ মঞ্চ শুক্রবার সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে তিন জেলায় বারো ঘণ্টা বনধের ডাক দেয়। বনধ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও বিকেলে আপার সিয়াং জেলার গেকু এলাকায় পিকেটারদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের উপর টিয়ার গ্যাস ছুড়ে, লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে ১৫ জনের মতো জখম হন৷ পূর্ব সিয়াং জেলার সদর পাসিঘাটেও আন্দোলনকারীদের লাঠিচার্জ করে ও কয়েকজন পিকেটারকে আটক করে। তাদেরকে রাতেও ছাড়েনি৷ এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে আন্দোলনকারীরা। বনধের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর শুক্রবার রাতে পাসিঘাটে সহস্রাধিক আন্দোলনকারীর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে। একসময় বিক্ষোভকারীরা ন্যাশনাল হাইড্রোইলেক্ট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশনের অফিস জ্বালিয়ে দেয়। এখানে পুলিশের সঙ্গে তাদের বচসা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাতে পাসিঘাট সদর থানা সহ একাধিক সরকারি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় উন্মত্ত ছাত্ররা। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের ক্ষোভ এতোটাই তীব্র হয়ে উঠে যে রাতে পাসিঘাটে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি কালিয়াং ময়ং, পাসিঘাটের বিজেপি বিধায়ক নিনোং ইরিং ও গেকু বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক ওনি পায়েঙের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়৷ সারা রাত ধরে তিন জেলায় তাণ্ডব চালায় উন্মত্ত আন্দোলনকারীরা।  আগুনে অবশ্য হতাহতের খবর নেই। 
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শনিবার সকালে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। এই প্রকল্প নিয়ে সরকার দ্বিতীয়বার ভাববে বলেও ঘোষণা করেছেন খান্ডু। আন্দোলনের চাপে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকার  পিছু হঠার পথে হাঁটছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিকে, রাজ্য পুলিশের আইজিপি হিবু তামাং শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, জেন জি আন্দোলন সামাল দিতে তিন জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। থানায় আগুন দেওয়া ও পুলিশের উপর পাথর বৃষ্টির দায়ে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।

Comments :0

Login to leave a comment