বাইক ও স্কুটার চালকদের জন্য সতর্কবার্তা। পথ রাস্তা দুর্ঘটনা এড়াতে পদক্ষেপ প্রশসনের। এবার থেকে নিয়ম মেনে চলতে হবে বাইক চালকদের। হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করতে রাস্তায় পুলিশ। হেলমেট ব্যবহার না করার ফলে মোটা অঙ্কের জরিমানা হতে পারে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের ২,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ শহর জুড়ে হেলমেটবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে ১১ থেকে ১৩ মে এই তিনদিনে ৩,৩০০’র বেশি হেলমেট না পড়ে বাইক চালানোর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মামলা নথিভুক্ত হয়েছে হেডকোয়ার্টার্স ট্র্যাফিক গার্ড এলাকায়। এছাড়াও, মেটিয়াব্রুজ, জোড়াবাগান, ইস্ট ট্র্যাফিক গার্ড এবং টালিগঞ্জ এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হেলমেট লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ট্র্যাফিক পুলিশ প্রধান মোড়, ব্যস্ত রাস্তা এবং বাজার এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে। ১৩ মে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ৬৪১টি নতুন মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য এই অভিযান আগামী দিনগুলিতেও চলবে এবং যারা নিয়ম লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক ট্র্যাফিক আধিকারিকদের মতে, হেলমেট না পরার কারণে দু-চাকার চালকদের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে শহরে হেলমেট পরীক্ষা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, কঠোর নজরদারি এবং ধারাবাহিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পথ দুর্ঘটনা কমানো এবং মানুষকে সুরক্ষা বিধি সম্পর্কে সচেতন করা সম্ভব। পুলিশের লক্ষ্য শুধু চালান দেওয়াই নয়, বরং হেলমেট পরার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাও। প্রশাসন দুই চাকার চালকদের নিজেদের সুরক্ষার জন্য রাস্তায় থাকাকালীন সর্বদা হেলমেট পরতে এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলতে আবেদন জানিয়েছে। আগে শুধুমাত্র হেলমেট ছাড়া গাড়ি চালানোর জন্য জরিমানা করা হতো, কিন্তু এখন হেলমেট পরলেও জরিমানা হতে পারে। হেলমেট পরা অবস্থায়ও স্ট্র্যাপ সঠিকভাবে না বাঁধা নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ধরনের ক্ষেত্রে, ট্রাফিক পুলিশ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। এছাড়াও, যদি হেলমেটটি আইএসআই চিহ্ন না না থাকে বা নিম্নমানের হয়, তাহলে আলাদাভাবে ১,০০০ টাকা জরিমানা করা যেতে পারে। হেলমেট শুধুমাত্র পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য নয়, বরং জীবনের সুরক্ষার জন্য। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো মাথায় আঘাত। অনেকেই লোকদেখানোর জন্য হেলমেট পরেন কিন্তু এর স্ট্র্যাপ আলগা করে রাখেন। এমন পরিস্থিতিতে, দুর্ঘটনার সময় হেলমেট মাথা থেকে খুলে গিয়ে গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে। তাই এখন হেলমেট সঠিকভাবে বাঁধা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
১৯৮৮ সালের মোটরযান আইনের ১২৯ ধারায় উল্লিখিত আইনগুলি সমগ্র ভারতে প্রযোজ্য। এতে বলা হয়েছে, চার বছরের বেশি বয়সী যেকোনো ব্যক্তি দুচাকার গাড়িতে থাকলে তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে হেলমেট পরতে হবে। আইন অনুযায়ী চালক এবং আরোহী উভয়কেই বাধ্যতামূলকভাবে হেলমেট পরতে হবে। হেলমেট বিধি লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের জরিমানা দিতে হবে এবং পরিণতিরও সম্মুখীন হতে হবে। মোটরযান আইনের ধারা ১৯৪ডি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে হেলমেট ছাড়া গাড়ি চালানোর জন্য জরিমানা এক হাজার টাকা। এছাড়াও, লঙ্ঘনকারীর লাইসেন্স তিন মাসের জন্য বাতিল করা হবে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়ার জন্য ২০১৯ সালে আইনের সংশোধনীতে নতুন জরিমানা চালু করা হয়েছিল। সংশোধনের আগে, হেলমেট ছাড়া গাড়ি চালানোর জরিমানা ছিল ১০০ টাকা। যেহেতু চালকরা এই সামান্য জরিমানাকে গুরুত্ব সহকারে নেননি, তাই তা বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করা হয়েছিল।
Helmets Mandatory
হেলমেট বাধ্যতামূলক, নয়তো মোটা অঙ্কের জরিমানা!
×
Comments :0