West Bengal Election 2026

ইসলামপুরে কলেজের দাবি উঠছে বাম প্রার্থীর প্রচারে

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

প্রচারে সিপিআই(এম) প্রার্থী সামি খান। ছবি তপন বিশ্বাস।

ইসলামপুরে উচ্চ শিক্ষার বেহাল পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী সামি খান প্রচারে ঝড় তুলেছেন। তাঁর মূল দাবি, দ্রুত ইসলামপুরে আরও একটি কলেজ স্থাপন করতে হবে। এই দাবিকে ঘিরে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের এক বড় অংশ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। একইসঙ্গে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের শিক্ষা নীতির তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
বর্তমানে ইসলামপুরে একমাত্র কলেজ ইসলামপুর কলেজে পড়ুয়ার চাপ চরম আকার নিয়েছে। যেখানে প্রথম বর্ষে মাত্র ১৫০০ ছাত্রছাত্রী ভর্তি নেওয়ার পরিকাঠামো রয়েছে, সেখানে প্রতি বছর পাঁচ হাজারেরও বেশি পড়ুয়া ভর্তি হচ্ছে। ফলে কলেজে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যা নির্ধারিত ক্ষমতার প্রায় তিনগুণ। এর ফলে শ্রেণিকক্ষের অভাব, নিয়মিত ক্লাসে ব্যাঘাত এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা চরমে উঠেছে।
গত বছর গণ টোকাটুকির অভিযোগ সামনে আসার পর উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়। এই ঘটনা শুধু শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে আনেনি, বরং রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। শিক্ষামহলের মতে, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়াই এর মূল কারণ।
কলেজের প্রবীণ অধ্যাপক ডঃ গৌড় ঘোষ জানান, ‘‘দীর্ঘদিন ধরেই আরও একটি কলেজের দাবি জানানো হলেও প্রশাসনের তরফে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’’ প্রাক্তন ছাত্র অঞ্জন দাস বলেন, ‘‘একসময় নিয়মিত ক্লাস ও কঠোর উপস্থিতির নিয়ম ছিল, যা এখন অতীত।’’ তিনি মনে করেন, ছাত্র-শিক্ষকের সঠিক অনুপাত বজায় না থাকায় শিক্ষার মান ভেঙে পড়ছে। এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি রাজ্যের শাসক দলের শিক্ষা নীতিকে দায়ী করছেন অনেকে। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার পরিবর্তে শুধু প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করছে। ফলে বাস্তবে শিক্ষার মানোন্নয়নের বদলে অব্যবস্থা বাড়ছে।
এসএফআইয়ের স্থানীয় নেতৃত্ব জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালালেও সরকার কোনও বাস্তব পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের অভিযোগ, শিক্ষাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিন সামি খান তাঁর প্রচারে স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসলামপুরে আরও একটি কলেজ স্থাপন শুধু একটি দাবি নয়, এটি সময়ের প্রয়োজন। শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক সুযোগ দিতে অবিলম্বে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাঁর দাবি, এই প্রশ্নে মানুষ এবার জবাব চাইছে।

Comments :0

Login to leave a comment