মৃত বোনের আমানতে জমা ছিল কুড়ি হাজার টাকা। ব্যাঙ্ক থেকে টাকাটা তুলেই পারছিলেন না বিয়াল্লিশ বছরের জিতু মুন্ডা। দারিদ্রের কামড়ে অতিষ্ঠ জিতু মরিয়া হয়ে বোনের কঙ্কালে পরিণত দেহাবশেষ নিয়ে হাজির হলেন ব্যাঙ্কে।
একজন আদিবাসী তার মৃত বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকে উপস্থিত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার ওড়িশা রাজ্যের কেওনঝড়ে জেলার ডায়ানালি গ্রামে।
বিয়াল্লিশ বছরের জিতু মুন্ডা সোমবার দুপুরে তার বোনের সমাধিস্থ মৃতদেহ তুলে নিয়ে ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় পৌঁছান। জানা গিয়েছে জিতুর বোন তার স্বামী ও একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর তার দাদার কাছে ফিরে এসেছিল। প্রায় দু মাস আগে জিতুর বোনেরও মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে ওই ব্যাংকের শাখায় একটি সেভিংস একাউন্ট খুলেছিলেন তিনি এবং তাতে নিয়মিত টাকা ও জমা করতেন। বোনের মৃত্যুর পর জিতু সেই পাসবুক নিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার জন্য ব্যাংকে যান। কিন্তু ব্যাংকের আধিকারিকদের বক্তব্য, তিনি জানাননি যে বোন মারা গিয়েছে। তিনি একাধিকবার ব্যাংকে যাওয়ার পরও টাকা তুলতে পারেননি।
ব্যাংকের তরফে জিতুকে বলা হয় আমানতকারী হিসেবে তার বোন উপস্থিত থাকলে তবেই একাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারবেন। ব্যাংকের এক আধিকারিক বলেন আমরা তাকে তার বোনের আইনসম্মত উত্তরাধিকারী হওয়ার প্রমাণ আনতে বলেছিলাম।
জিতু বুঝেছিলেন টাকা তোলার জন্য তার বোনকে সশরীরে হাজির থাকা প্রয়োজন তাই সে গ্রামে ফিরে কবর থেকে মৃতদেহ তুলে নিয়ে প্লাস্টিকে ভরে ব্যাংকে নিয়ে আসে। ব্যাংকের কর্মীরা মৃতদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশ ও ব্যাংকের আধিকারিকরা আশ্বাস দেন তার বোনের একাউন্ট থেকে প্রয়োজনীয় টাকা তোলার ব্যবস্থা করা হবে তারপর সে দেহাবশেষ নিয়ে গ্রামে ফিরে গিয়ে ফের সমাধিস্থ করেন।
young man with sister's skeleton
দারিদ্রের কামড়, বোনের কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির যুবক
মৃত বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের পথে জিতু মুন্ডা।
×
Comments :0