Assembly Election 2026: Kashipur Belgachhia

দলাদলির রাজনীতি ভেঙে রোজগারের রাজনীতির কথা বস্তির ভেতরেও

কলকাতা বাংলা বাঁচানোর ভোট

অরিজিৎ মণ্ডল: সিঁথি

কাশিপুর বেলগাছিয়াই গলার কাঁটা তৃণমূলের। ২০২১ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই জিতেছেন অতীন ঘোষ। ২০২৬’র বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। কিন্তু গত পাঁচ বছরে দলেরই শান্তনু সেন গোষ্ঠীর সঙ্গে একাধিকবার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এলাকার মানুষ প্রকাশ্য দিবালোকে একাধিকবার রক্তপাত দেখেছে। 
শুধু গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই নয়, আক্রমণ চলেছে বামপন্থীদের ওপরও। অরুণিমা চক্রবর্তী, কাশিপুর বেলগাছিয়া বিধানসভার সিঁথি অঞ্চলের যুব আন্দোলনের কর্মী। তিনি বলছেন, শান্তনু সেনকে এলাকায় মানুষ ‘স্কোয়ার ফুট সেন‘ নামে ডাকে। প্রথম থেকেই দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজ কায়েম করেছিলেন তিনি। সেই সময় আক্রমণের মুখে ছিল বামপন্থী ও প্রগতিশীল অংশ। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তার বিরুদ্ধেও লড়াইও হয়েছে। 
২০২১ সালে এই বিধানসভার মানুষকে বোঝানো হয়েছিল শান্তনু সেনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতীন ঘোষ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর মানুষ শান্তি চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি জেতার পর আধিপত্য বিস্তার করতে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে তৃণমূল। এলাকার মানুষের মধ্যে তৈরি করেছে বিভাজন। পাড়ার ক্লাব থেকে চায়ের দোকান মানুষের মধ্যে বিভাজন হয়েছে। রাজনৈতিক দলের ঊর্ধ্বে সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠন গুলিতেও চলেছে রাজনীতির রং লাগানোর প্রয়াস। বাম আন্দোলনের কোনো কর্মী থাকলেই তাদের বিরুদ্ধে পর এক কুৎসা, একঘরে করে দেওয়ার প্রবণতা থেকেছে। শারীরিক আক্রমণও কম হয়নি। সেই সঙ্গে হয়েছে প্রতিরোধও।
এলাকার গরিব বস্তিবাসী মহিলারা বামপন্থী কর্মীদের প্রচারের সময়েই বলেছেন যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা যুবসাথী প্রকল্পের টাকায় সংসার চলে না। কাজ চাই ছেলেমেয়েদের। পরিযায়ী হতে না হয়। অনেকে বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করেন। ওড়িশায় কাজ করেন এক মহিলার পুত্র। বয়স সেই যুবকের মাত্র পঁচিশ বছর। এমন কম বয়সেই অন্য রাজ্যে চলে যেতে হচ্ছে পরিবার ছেড়ে। 
এলাকায় হিন্দিভাষী এবং বাংলাভাষীদের মধ্যে বিভেদ ছড়াচ্ছে তৃণমূল এবং বিজেপি। ভাষা সংস্কৃতির ফারাককে বড় করে দেখানো হচ্ছে। এলাকায় রামনবমীর মিছিল হয়েছে। দু’দলই সেই মিছিল করেছে। আবার বাম প্রার্থী রাজেন্দ্র গুপ্তা রামনবমীর দিন রাস্তাতেই থেকেছেন। মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। বামকর্মীরা রাস্তায় থেকে সক্রিয় ছিলেন যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না হয়। 
শুক্রবার কাশিপুর বেলগাছিয়া বিধানসভার সিঁথি অঞ্চলে হয়েছে জনসভা। বক্তা ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কনীনিকা ঘোষ।

এই বিধানসভা কেন্দ্রে এসআইআর’র প্রকোপ ভয়ঙ্কর। বিচারাধীন প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। বৈধ ভোটার বাদ দেওয়া যাবে না একথাও প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হয়েছে সিপিআই(এম) প্রার্থী রাজেন্দ্র গুপ্তার। মানুষের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকেও বোঝা যাচ্ছে দুই শাসক দলই মানুষকে সমস্যার মধ্যে ফেলতেই এই এসআইআর লাগু করেছে।
সেলিম বলেছেন, এসআইআর আবহে দিন কাটাচ্ছি আমরা। এভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ভয়ভীতি ছড়ানো দেখা যায়নি। আইন মেনে কাজ হলে সুষ্ঠুভাবে ভোটার তালিকা করা যেত। আইনের বদলে লাইনে কাজ হয়েছে। 
সেলিম বলেন, দুনিয়াজুড়ে যত সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বাড়বে তত যুদ্ধবিরোধী প্রগতিশীল মানুষ একজোট হবে। বামপন্থীদের সঙ্গে দক্ষিণপন্থীদের মুখোমুখি লড়াই চলবে।  
কনীনিকা ঘোষ বলেন, মোদী নারী দিবসের দিন রান্নার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে উপহার দিয়েছেন। ট্রাম্পের কাছে দেশের মাথা নুইয়ে এসেছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে দেশে। বাড়ছে গ্যাসের দাম। এই নীতিকে পরাজিত করতে হবে। হারাতে হবে দুর্নীতিবাজ তৃণমূলকে। জয়ী করতে হবে বাম শক্তিকে।

Comments :0

Login to leave a comment