Delhi Building Collapses

চলতি বছরেই দিল্লির পাঁচ বাড়ি ধসে মৃত ১৬

জাতীয়

পাঁচতলা বাড়ি সত্য নিকেতনই কেবল ধসে পড়েনি। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাস শেষ হওয়ার আগেই রাজধাণী শহর দিল্লিতে পাঁচটি বাড়ি ধসে পড়েছে। 
দিল্লির বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাড়ি ধসে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। বাড়িটি কার্যত ছিল ছাত্রাবাস। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় বা স্নাতক স্তরের বিভিন্ন কলেজের ছাত্ররাই থাকতেন এই বাড়িতে। 
চলতি বছরে পাঁচটি বাড়ি ধসে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১৬ জন। 
মর্মান্তিক ওই বিল্ডিং ধসের ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলিতে নিজস্ব হোস্টেল চালু করার দাবিতে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লি সরকার ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়কে এই বিষয়ে নোটিশ জারি করেছে। 
সরকারি পরিসংখ্যান ও পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, তিনটি পৃথক ঘটনা, মে মাসে সাকেতে ছয়জন, জুলাই মাসে রোহিনিতে তিনজন এবং সর্বশেষ ৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বমোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। 
আধিকারিকরা জানিয়েছে যে, প্রতিটি ভবন ধসে পড়ার পেছনে কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত ও অনুমোদনহীন নির্মাণকাজ, অতিরিক্ত তলা সংযোজন, পুরোনো কাঠামো এবং কাঠামোগত নিরাপত্তার যথাযথ মূল্যায়ন না করা। এর সঙ্গে, মেরামতের কাজের সময় অপর্যাপ্ত সতর্কতা এবং বর্ষাকালে ভিত, দেয়াল ও বেসমেন্টে জলের কারণে ক্ষতির বিষয়টি যুক্ত রয়েছে।  
গত ৩০ মে দক্ষিণ দিল্লির সাকেত এলাকার  একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, যেখানে কোচিং সেন্টার, ক্যাফে ও অফিস ছিল, সেই বিল্ডিংটি তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে। ওই ঘটনায়  নিহত ছয়জনের মধ্যে অধিকাংশই ছিল শিক্ষার্থী। সেইসঙ্গে, আটজন আহত হন।
পরবর্তীকালে দিল্লি সরকারের নির্দেশে পরিচালিত এক ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তে এই ধসের জন্য মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশন অফ দিল্লি (এমসিডি)-কে প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হয়। ওই তদন্তে দেখা গেছে যে, ভবনটিতে অবৈধভাবে তৃতীয় ও চতুর্থ তলা নির্মাণ করা হয়েছিল। 
৮ জুলাই ভারী বৃষ্টির মধ্যে রোহিণীর সেক্টর ১৬-তে নির্মাণাধীন একটি চারতলা ভবন ধসে পড়ে। ওই ঘটনাও  তিনজন নিহত হন এবং আরও অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। 
অন্য দুটি ঘটনায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলেও কারও মৃত্যু হয়নি। ২ জুন উত্তর দিল্লির মুকুন্দপুরে এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে বাসনপত্র রং করার একটি অবৈধ কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত একতলা বাড়ি ধসে পড়ে। এতে এগারোজন শ্রমিক আটকা পড়ে আহত হন, তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়। 
ওই ঘটনার পরদিনই,  উত্তর-পূর্ব দিল্লির কারাওয়াল নগরে একটি চারতলা ভবন ধসে পড়ে, তাঁর আগে কাছাকাছি একটি নর্দমা মেরামতের কাজ চলাকালীন ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। সৌভাগ্যবশত, আগেই সেখানকার সব বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
সত্য নিকেতনে ভবন ধসে পড়ার ঘটনার পর এমসিডি'র পাঁচজন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।

Comments :0

Login to leave a comment