সংখ্যালঘুদের বিপন্ন করাই উদ্দেশ্য জনবিন্যাস পরিবর্তন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটির। সেই উদ্দেশ্য ফাঁস হয়েছে রাজ্যগুলিকে পাঠানো প্রশ্নের তালিকায়। এখনই এই কাজ বন্ধ করতে হবে এখনই।
বুধবার এই দাবি জানিয়েছে সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো।
গত ২৬ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরকে প্রধান করে এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গড়া হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকও করেছে এই কমিটি। সম্প্রতি রাজ্যগুলিকে ৩৫টি প্রশ্নের তালিকা পাঠিয়ে জাবব চেয়েছে কমিটি।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের ধর্মীয় পরিচয় চাওয়া হয়েছে। কোন কোন জেলায় আধার, ভোটার পরিচয় পত্র এবং রেশ কার্ডের নথিভুক্তি ‘অস্বাভাবিক হারে’ বেড়েছে তা-ও জানতে চেয়েছে কমিটি।
রাজ্যগুলির কাছে পাঠানো ৩৫টি প্রশ্নের তালিকায় রয়েছে এমন প্রশ্ন। জানতে চাওয়া হয়েছে স্কুলে নাম নথিভুক্তি, জমির দলিল হস্তান্তর সংক্রান্ত তথ্যও।
‘বেআইনি অনুপ্রবেশের’ এবং ‘অন্য অস্বাভাবিক কারণে’ জনবিন্যাসের পরিবর্তন খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে।
পলিট ব্যুরো বলেছে, জনবিন্যাস পরিবর্তন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটি গড়া নিয়ে যে সন্দেহ ছিল তা-ই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই কমিটি গঠনের সময় থেকে উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় জানিয়ে এসেছে সিপিআই(এম)।
পলিট ব্যুরো বলেছে, স্কুলে নথিভুক্তি বৃদ্ধি, আদিবাসীদের ধর্ম পরিবর্তন, জমির মালিকাণ পরিবর্তন, ভোটদাতাদের নথিভুক্তি এবং আধার কার্ড দেওয়ার তথ্য চাওয়া হয়েছে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে। সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করার যে লক্ষ্য নিয়ে চলে আরএসএস-বিজেপি তাকেই কার্যকর করার জন্য এই কমিটি গড়া হয়েছে।
পলিট ব্যুরো বলেছে, এসআইআর এবং ডিলিমিটেশন পক্রিয়ার থেকে এই কমিটির তৎপরতাকে আলাদা করে দেখা যাবে না। এসআইআর, জনগণনা, ডিলিমিটেশন এবং এই জনবিন্যাস বিষয়ক কমিটি একযোগে যা চালচ্ছে দেশে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। নাগরিকত্ব, প্রতিনিধিত্ব, গণতন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর তার প্রভাব পড়বে।
পলিট ব্যুরো বলেছে, জনগণনা প্রক্রিয়ার মাঝে জনবিন্যাস কমিটির এই সক্রিয়তা পুরো বিষয়টিকে আরও ঘোলাটে করে দিচ্ছে।
পলিট ব্যুরো বলেছে, জনগণনার ভিত্তিতেই জনবিন্যাসের পরিবর্তন দেখা উচিত।
Polit Bureau on Demographic Committee
সংখ্যালঘুদের বিপদে ফেলাই লক্ষ্য, জনবিন্যাস কমিটির কাজ এখনই বন্ধের দাবি পলিট ব্যুরোর
×
Comments :0