হরিয়ানায় রাজ্যে বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার বিদ্যুৎকর্মী। তিন দিনের ধর্মঘট শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। ‘হরিয়ানা বিজলি কর্মচারী ইঞ্জিনিয়ার জয়েন্ট সংঘর্ষ মোর্চা’-র লড়াইয়ে শামিল রয়েছে সিআইটিইউ।
গুরুগ্রাম বা গুরগাঁও এবং নুহতে বিপুল গ্রাহকের পরিষেবাকে বেসরকারি সংস্থার মুনাফার মুখে ঠেলে দিচ্ছে হরিয়ানার বিজেপি সরকার। বিদ্যুৎকর্মীরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করায় বৃহস্পতিবার গুরুগ্রামের বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। এর ফলে, অনেক আবাসিক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়।
দৌলতাবাদ, কাদিপর এবং সেক্টর ৩৭-সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবস্থিত শিল্প ইউনিটগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়িক ও শিল্প ক্ষেত্রগুলিতে প্রভাব পড়েছে।
গুরুগ্রাম ও নুহ-তে ২৫ বছরের জন্য বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব বেসরকারি কোম্পানি ‘ইলেভেন পাওয়ার’-কে দেওয়া হয়েছে। হরিয়ানা বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতেই এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
সিআইটিইউ সহ বিদ্যুৎ কর্মীদের ইউনিয়নগুলি এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তারা একে শ্রমিকবিরোধী এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে। বিদ্যুৎকর্মী ইউনিয়ন সমূহের বক্তব্য, বেশি রাজস্ব আদায় হয় এমন এলাকাগুলি কোনও বেসরকারি কোম্পানির হাতে তুলে দিলে তা রাষ্ট্রায়ত্ত ‘দক্ষিণ হরিয়ানা বিজলি বিতরণ নিগম’-কে দুর্বল করে দিতে পারে। সরকারি অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে একটি বেসরকারি অপারেটরের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যেতে পারে।
এদিকে বিদ্যুৎকর্মীদের জাতীয় স্তরের সংগঠন ইইএফআই’র সাধারণ সম্পাদক এবং সিআইটিইউ’র সর্বভারতীয় সুদীপ দত্ত বলেছেন, ‘‘এই ‘ইলেভেন পাওয়ার’ আসলে ভুয়ো সংস্থা। মাত্র ট কোটি টাকা পুঁজি রয়েছে এই সংস্থার। তার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বিপুল গ্রাহকের পরিষেবার ভার। আসল উদ্দেশ্য সরকারি বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করা। স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, আউটসোর্সে কর্মরত শ্রমিক এবং কর্মচারী ও ইঞ্জিনিয়ারদের ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এই সিদ্ধান্তকে বাতিল করতে হবে। ৯০ শতাংশ কর্মচারী ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন। হরিয়ানার অর্ধেক অংশ ডুবে গিয়েছে অন্ধকারে।’’
বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্মীদের যৌথ মঞ্চ ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যব্যাপী ধর্মঘটের ঘোষণা করেছে। ইউনিয়ন সমূহ বলেছে, বেসরকারিকরণের ফলে বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যেতে পারে। সাদারণ গ্রাজক, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ৪০ হাজার স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সড কর্মী এবং ইঞ্জিনিয়ারের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হবে।
Haryana Power Strike
হরিয়ানায় বিদ্যুৎ বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে ধর্মঘটে শামিল ৪০ হাজার কর্মী, অন্ধকার গুরগাঁওয়ে
×
Comments :0