প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দিল্লির জন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যেই উত্তরাখণ্ডে আরও একটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে এসেছে। বীর মাধো সিং ভান্ডারি উত্তরাখণ্ড টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি দুটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীক্ষার অনুরূপ প্রশ্ন পড়ুয়াদের দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে অভিযুক্ত শিক্ষক আশীষ কুমার শিবালিক কলেজের একজন অধ্যাপক এবং তিনি প্রশ্নপত্র তৈরি করতেন। তার বিরুদ্ধে পরীক্ষার আগে কলেজের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পড়ুয়াদের একই ধরনের প্রশ্ন পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছে।
এই ঘটনায় কলেজের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। যখন সারাদেশের প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে, তখন উত্তরাখণ্ডের এই ঘটনাটি একটি নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তৃপ্তা ঠাকুর সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক যে কলেজের সঙ্গে যুক্ত, সেই কলেজের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে আগামী সাত বছরের জন্য যেকোনো পরীক্ষা-সংক্রান্ত কাজে নিষিদ্ধ করেছে। তিনি আরও বলেন, ওই শিক্ষক তাঁর ২২ জন ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন করেছেন। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের শিক্ষকদের কোনো পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট কলেজের উচিত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা। বিশ্ববিদ্যালয় এখনও পর্যন্ত কলেজের নেওয়া পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নয়। উপাচার্য জানিয়েছেন যে তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে একটি প্রশ্নপত্র ইতোমধ্যেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। ফলস্বরূপ, সেই দুটি পরীক্ষাও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান যে উভয় পরীক্ষাই এখন আগস্ট মাসে পুনঃনির্ধারিত হবে এবং নতুন পরীক্ষার তারিখ শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে গত ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘মেশিন লার্নিং ফর ইন্টারনেট অফ থিংস’ পরীক্ষা নিয়ে পরীক্ষার্থীরা একটি অভিযোগ দায়ের করেছিল। অভিযোগ করা হয় যে পরীক্ষার প্রায় ৯০ শতাংশ প্রশ্ন ইতোমধ্যেই পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। তাদের দাবি, শিবালিক কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সহকারী অধ্যাপক আশীষ কুমার গুপ্ত পরীক্ষার আগে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এই প্রশ্নগুলো শেয়ার করেছিলেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করা হয় এবং দুটি ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষাই বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
Uttarakhand-Exam Papers Leak
ফের প্রশ্নপত্র ফাঁস উত্তরাখণ্ডে, বাতিল পরীক্ষা
×
Comments :0