Rahul Gandhi

'ভোট চুরি'তে লিপ্ত বিজেপি, আরএসএস ও কমিশন: রাহুল গান্ধী

জাতীয়

নির্বাচন কমিশন নাম না করে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করলেও দমবার পাত্র নন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। শনিবার ফের ‘ভোট চুরি’ নিয়ে কাঠগড়ায় তুলেছেন কমিশনকে। বিহারের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর পর ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। রাহুল গান্ধী প্রথম থেকেই কমিশনের এই ভূমিকাকে ‘ভোট চুরি’ বলে অভিযোগ করে চলেছেন। এরই প্রতিবাদে বিহারে তাঁর নেতৃত্বে শুরু হয়েছে ‘ভোটের অধিকার যাত্রা’। 
শনিবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বিহারে ভোটার তালিকার চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধনের জন্য কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং বিজেপি, আরএসএস এবং নির্বাচন কমিশনকে দেশে 'ভোট চোরি'তে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
ভোজপুরের জেলা সদর দপ্তর আরায় কংগ্রেসের ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ চলাকালীন এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন যে ভোটার তালিকা সংশোধন “সংবিধান এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আক্রমণ। বিজেপি, আরএসএস এবং নির্বাচন কমিশন দেশে 'ভোট চুরি' করছে। বিহার থেকে শুরু হওয়া 'ভোটার অধিকার যাত্রা' "জনগণের ভোট চুরির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হবে।" তিনি দাবি করেন, "এনডিএ সরকার মহারাষ্ট্র এবং দেশের অন্যান্য অংশে ভোট চুরি করতে সফল হয়েছে। কিন্তু আমরা বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে বিহারে একটি ভোটও চুরি করতে দেব না। ভোট দেওয়া দলিত, সংখ্যালঘু এবং মহিলাদের অধিকার, কিন্তু নরেন্দ্র মোদী সরকার ভোট চুরি করে ভোট জেতার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছে। সংবিধানের একটি কপি হাতে ধরে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে তারা "মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে সংবিধানকে আক্রমণ করছে।দেশের অন্য কোনও অংশে আমরা বিজেপিকে ভোট চুরি করতে দেব না। এখন মানুষ বিজেপি নেতাদের 'ভোট চোর' বলা শুরু করেছে।
বিজেপি-কমিশনের ছকের ‘ভোট চুরি’ সম্পর্কে বিহারবাসীকে সচেতন করার লক্ষ্যেই বিরোধীদের উদ্যোগে গত ১৭ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে ‘ভোটের অধিকার যাত্রা’। এই যাত্রায় দেশের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ শামিল হচ্ছেন। ১৬ দিনের এই যাত্রা রাজ্যের ১৩০০ কিলোমিটার পথ পেরোবে ২০টি জেলা ছুঁয়ে। ১ সেপ্টেম্বর পাটনায় হবে মহাসমাবেশ। চলার পথে বিপুল সাড়া মিলছে যাত্রায়। প্রতিদিন পথের দু’ধারে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকছেন মানুষজন।
বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৬৫ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার তীব্র সমালোচনা করে রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘‘এই যাত্রাপথে বহু মানুষ অভিযোগ করছেন যে তাঁদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। বহু জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।’’ ধনীদের নয়, বেছে বেছে গরিবের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, ‘‘কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকা বিজেপি আসলে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর পছন্দ করে না।

Comments :0

Login to leave a comment