Belda Super Specialty Hospital

নামেই সুপার স্পেশালিটি, শ্বাসকষ্টের ওষুধ মেলে না বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে

জেলা

নারায়নগড় ব্লকের বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বাইরে চিরকুট হাতে অসুস্থ রোগীর ছেলে।

ঝাঁ চকচকে সাইনবোর্ড তাক লাগানো ফটকে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সহ লেখা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। মিলেনা জীবনদায়ী ওষুধ। জরুরী পরিষেবা ক্ষেত্রেও চরম অবহেলা। রাত ১০টায় শ্বাসকষ্ট জনিত মুমূর্ষু রোগীকে ভর্তি করেও উৎকন্ঠায় পরিবার। বৃদ্ধ বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরও চরম উৎকন্ঠায় সারা রাত পরিবারের লোকজন। চিকিৎসকের চিরকূট হাতে।

জরুরি বাইর থেকে সেই ওষুধ কিনে আনতে হবে। এমন জরুরী সময়ে জীবনদায়ী ওষুধ আজকাল আর হাসপাতালে মেলে না। সেই চিরুকূট নিয়ে রাত একটা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরের বাইরে গিয়ে আরো বিপদে পড়তে হয়। একের পর এক ওষুধ দোকান বন্ধ। শীতের রাতে কাল ঘাম ছুটিয়ে ২ কিমি হেঁটে বেলদা বাজারে গিয়েও একের পর এক দোকানে কলিং বেল বাজিয়ে মিলেনি সাড়া। যদিও একটি ওষুধ দোকানী দোকান খুললো তার দোকানে সেই ওষুধ নেই। বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে জরুরী রোগীর ওষুধ না থাকায় মধ্যরাত পর্যন্ত হন্যে হয়ে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে উৎকন্ঠায় রাত কাটালো পরিবার। এমন ঘটনা নারায়নগড় ব্লকের বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। ঝাঁ চকচকে বিল্ডিং এর মধ্যে শূন্য খাঁচায় রোগী চটপট করলে জরুরী জীবন দায়ী ওষুধ মিলে না। এই নিয়ে প্রশ্ন পরিবারের। রোগী নিয়ে হাসপাতালে এলে যে চিকিৎসা মিলবে সময় মতো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

স্থানীয় মানুষ বলেন, বেলদার এই হাসপাতালকে কেন্দ্র করে তার সামনে গড়ে উঠেছে দেউলি বাজার। অনেক গুলি ওষুধ দোকান রয়েছে।নিয়মানুযায়ী রাতে পালা করে অন্তত পক্ষে একটা ওষুধ দোকান চালু থাকার কথা। কিন্তু সেই নিয়ম কেউ মানে না। এতে নাজেহাল হয় রোগীর পরিবার। স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, "আমরা দোকান খুলে রাখি রোগীর পরিবারের কখন কী খাবার, এমনকি গরম জল লাগলেও দেই। কিন্তু ওষুধ দোকান রাত ১০ টা বাজার আগেই বন্ধ করে সব চলে যায়। কয়েক দিন আগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। তার আগেও বহুবার ঘটেছে এমন ঘটনা।"

রবিবার রাতে বেলদা থানার চাকলা এলাকা বরেন দাসকে শ্বাসকষ্ট জনিত অসুখে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার পরিবার। ছেলে খোকন দাস বলেন, "রাত ১০ টায় ভর্তি করলে চিকিৎসক একটি ইনজেকসন সহ অক্সিজেন চালু করে দেয়। তারপরই একজন নার্স চিরকূট দিয়ে বলেন তাড়াতাড়ি বাইরে গিয়ে ওষুধ কিনে আনতে। তারপর রাত একটা পর্যন্ত হন্যে হয়ে ঘুরে ঘুরে কালঘাম ছুটলেও ওষুধ কোথাও পায়নি। সারা রাত উৎকন্ঠায় কাটিয়েছি। আজ সকালে সাড়ে ছয়টায় সেই ওষুধ কিনে এনে দিয়েছি। বাবা অনেকটাই কাহিল অবস্থায় রয়েছে। এখন কী হয় সেই উৎকন্ঠায় রয়েছি। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও ওষুধ থাকে না, আমরা রোগী নিয়ে এসে উৎকন্ঠায় থাকি এছাড়া আমাদের আর কি করার আছে।"

 

Comments :0

Login to leave a comment