পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালুর দাবিতে সোমবার থেকে বুধবার টানা তিন দিনের ধর্মঘটের ডাক দেন ব্যাঙ্ককর্মী ও আধিকারিকরা। তবে এদিন রাত সাড়ে ৯টায় ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ)-র সঙ্গে ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন (ইউএফবিইউ)-এর প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার পর দু’পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ব্যাঙ্ক কর্মচারী সংগঠনগুলি ধর্মঘট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দীর্ঘসূত্রিতা, কর্মীদের উপর চাপ তৈরি এবং ধর্মঘট ঠেকাতে একের পর এক নির্দেশিকার প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানায় ব্যাঙ্ককর্মী সংগঠনগুলি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, সমবায় ব্যাঙ্ক, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাঙ্কের কর্মী-আধিকারিকদের বিপুল অংশের ধর্মঘটে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালুর দাবিতে গত ১১ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন (ইউএফবিইউ)-এর নেতৃত্বে দেশজুড়ে ধর্মঘট হয়েছিল। সেই সময়ই ঘোষণা করা হয়, দাবি কার্যকর না হলে ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ফের তিন দিনের ধর্মঘট হবে। পারফরম্যান্স লিঙ্কড ইনসেন্টিভ (পিএলআই) নিয়ে বৈষম্যমূলক নীতি প্রত্যাহারের দাবিও ছিল কর্মীদের।
২২ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকের উদ্যোগে ইউএফবিইউ, আইবিএ, ডিপার্টমেন্ট অব ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস (ডিএফএস) এবং ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়। পিএলআই নিয়ে আলোচনায় সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ কার্যকর করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ। গত দু দিনেও অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অনমনীয় অবস্থানের কারণে তা ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানায় ইউএফবিইউ।
ঘোষিত ধর্মঘটের আগে রবিবার ছুটির দিনেও ব্যাঙ্ক খোলা রাখার নির্দেশ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউএফবিইউ এবং বিইএফআই-এর অভিযোগ, ধর্মঘটের আগে কর্মীদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত। কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর-এর হুমকি এবং মুখাবয়ব শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নজরদারির অভিযোগও তুলেছে সংগঠনগুলি। গ্রাহকদের মধ্যে কর্মীদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক প্রচার চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
বিইএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ বসু চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালে ইউএফবিইউ ও আইবিএ-র মধ্যে পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালুর বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই চুক্তি কার্যকর না করে কেন্দ্রীয় সরকার আড়াই বছর ধরে টালবাহানা করছে। দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই ধর্মঘটের পথে যেতে হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণভাবেই ধর্মঘট পালন করতে চান কর্মীরা।
Bank Strike Deferred
রাতের বৈঠকের পর স্থগিত ব্যাঙ্ক ধর্মঘট
×
Comments :0