Madhya Pradesh

শেষ মুহূর্তে বড় চমক, দাতিয়া উপনির্বাচনে শাহের নরোত্তম মিশ্রর বদলে আশুতোষ তিওয়ারিকে প্রার্থী করলো বিজেপি

জাতীয়

শেষ মুহূর্তে বড় সিদ্ধান্ত নিলো বিজেপি। মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রর পরিবর্তে দলের প্রার্থী করা হয়েছে আশুতোষ তিওয়ারিকে। দীর্ঘদিন ধরে নরোত্তম মিশ্রই এই আসনে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাংগঠনিক সমীকরণ, নির্বাচনী সমীক্ষা এবং জয়ের সম্ভাবনা বিচার করেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, ৬ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে বৈঠকের পর মধ্যপ্রদেশ বিজেপি কেবল নরোত্তম মিশ্রর নামই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছিল। তবে দিল্লিতে পৌঁছনো নির্বাচনী প্রতিক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে দেখা যায়, মিশ্রর রাজনৈতিক অবস্থান প্রত্যাশিত শক্তিশালী নয়। পাশাপাশি তার ছেলে সুকর্ণ মিশ্রকে নিয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একটি অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট চেয়েছিল, যা খুব ইতিবাচক ছিল না বলেই সূত্রের দাবি। সবদিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত আশুতোষ তিওয়ারির নামেই সিলমোহর দেয় দল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নরোত্তম মিশ্র জয়ী হলে তার রাজ্য মন্ত্রিসভায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতো। শিবরাজ সিং চৌহানের সরকারে তিনি বিজেপির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। উপনির্বাচনে জয় তার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিতে পারত এবং সরকার ও সংগঠনের ভিতরে নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টিও শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
দলীয় সূত্রের আরও দাবি, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়। কৈলাস বিজয়বর্গীয়, প্রহ্লাদ প্যাটেল, বিধানসভার স্পিকার নরেন্দ্র সিং তোমর, শিবরাজ সিং চৌহান, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং ভিডি শর্মার মতো নেতারা ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এই পরিস্থিতিতে আর একটি শক্তিশালী ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরি হোক, তা দল চাইছিল না।
এবারের প্রার্থী নির্বাচনে সামাজিক সমীকরণকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বিজেপি। দাতিয়া কেন্দ্রে ৩০ হাজারেরও বেশি ব্রাহ্মণ ভোটার রয়েছেন। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাট ভোটার এবং ব্রাহ্মণ ও কুশওয়াহা সম্প্রদায় বিজেপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে বিবেচিত। সেই কারণেই আরএসএসের পটভূমি থাকা স্থানীয় ব্রাহ্মণ মুখ আশুতোষ তিওয়ারির উপর আস্থা রেখেছে দল।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও নরোত্তম মিশ্রকে টিকিট দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক গুরুত্বের চেয়ে সাংগঠনিক অগ্রাধিকার এবং জয়ের সম্ভাবনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি।
তবে এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে। দাতিয়া জেলা বিজেপির সভাপতি রঘুবীর কুশওয়াহ-সহ একাধিক পদাধিকারী প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দাতিয়া, ডাবরা এবং গ্বালিয়র এলাকাতেও প্রতিবাদের আওয়াজ উঠেছে। নরোত্তম মিশ্রর বিস্তৃত সংগঠনভিত্তি এবং অনুগামীদের নতুন প্রার্থীর পক্ষে একজোট করাই এখন বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, প্রার্থী ঘোষণার পর আশুতোষ তিওয়ারি নরোত্তম মিশ্রকে নিজের রাজনৈতিক শিক্ষক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মিশ্রর পরামর্শ ও আশীর্বাদ তার কাছে সবসময় মূল্যবান। 
নরোত্তম মিশ্রকে সরিয়ে আশুতোষ তিওয়ারিকে প্রার্থী করায় দাতিয়া উপনির্বাচনে বিজেপিকে এখন নতুন করে নির্বাচনী কৌশল সাজাতে হবে। এই নির্বাচন নবনিযুক্ত রাজ্য বিজেপি সভাপতি হেমন্ত খান্ডেলওয়ালের নেতৃত্বে প্রথম বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। একইসঙ্গে এটি মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের কাছেও মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Comments :0

Login to leave a comment