SC SIR

নাম তোলার সময়সীমা পিছাবে? বিবেচনার আশ্বাস সুপ্রিম কোর্টের

জাতীয় রাজ্য

ভোটার তালিকায় নাম জুড়ে নেওয়ার সময়সীমা বাড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গে। মঙ্গলবার এই মর্মে আবেদন বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। 
মঙ্গলবার শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা মোস্তারি বানু পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর’র বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তী অন্য একাধিক আবেদনের ভিত্তিতে চলছে শুনানি।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, দেশের অন্য রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া মসৃণ হলেও পশ্চিমবঙ্গেই সমস্যা হচ্ছে। 
সোমবার মধ্যরাতে এসআইআর’র ভিত্তিতে তৈরি চূড়ান্ত তালিকার প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে ৬০ লক্ষের বেশি নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রেখে কমিশন ভোট ঘোষণা করেছে। 
এই বিবেচনাধীন নামে আবেদনের ভিত্তিতে বেরিয়েছে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। মোট ২৯ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হলেও কত নাম বাদ পড়েছে তা নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলেও ধোঁয়াশা কাটেনি। বাদ নামের সংখ্যা স্পষ্ট করেননি কমিশনের সিইও মনোজ আগরওয়াল।
কমিশন ঘোষিত সূচি অনুযায়ী রাজ্যে প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল। বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ৩০ মার্চ। এই পর্বে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ২ এপ্রিল। এই দফায় মনোনয়ন জমার শেষ দিন ৯ এপ্রিল। 
মনোনয়ন জমা শেষ হওয়ার মধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এখনও ৩১ লক্ষের নাম বিবেচনার কাজ বাকি রয়েছে। নাম বাদ পড়লে ফের আবেদন করতে হবে কমিশনের মাধ্যমে তার ফয়সালা হবে ট্রাইবুনালে। এখনও ট্রাইবুনাল সম্পর্কে তথ্য নির্দিষ্ট হয়নি। 
সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ভোটদানের দিনের সাত দিন আগে পর্যন্ত পিছানোর প্রস্তাব দেন আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। এই প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে বলে জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘‘প্রয়োজনে বিবেচনা করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত পদ্ধতি ঠিকঠাকই চলছে।’’
ট্রাইবুনালের কাজ এখনই চালু করার জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানান আইনজীবী দিওয়ান। 
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টই এই মামলায়  বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতিদের নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল। গত ১১ মার্চ ট্রাইবুনাল গঠনের জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ পাঠিয়েছিল শীর্ষ আদালতই। কমিশনের অভিযোগ ছিল রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত আধিকারিক দেয়নি বলে বাইরের রাজ্য থেকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে হয়েছিল। 
খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ম্যাপিংয়ে সমস্যা না হলেও ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি’ খোঁজার পদ্ধতি চালু করে কমিশন। চূড়ান্ত তালিকায় বিপুল সংখ্যায় বিবেচনাধীন নামের তালিকা তৈরি হয় সে কারণেই। কমিশনের দাবি, অন্য রাজ্যেও ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি’ খোঁজা হয়েছে। তবে স্বীকার করেছে যে পশ্চিমবঙ্গে এই পদ্ধতির ভিত্তিতে অনেক বেশি নাম চিহ্নিত হয়েছে। 
রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু, মতুয়া, আদিবাসী এবং মহিলাদের নাম বাদ পড়েছে অনুপাতে বেশি। সংখ্যালঘু প্রধান এলাকায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি‘ বা যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির নামে বাদ পড়ার ঘটনা রয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment