দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি
“সানডে হো ইয়া মানডে, রোজ খাও আন্ডে”— একসময় দূরদর্শনের এই জনপ্রিয় প্রচার সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায় ডিমের গুরুত্ব তুলে ধরেছিল। ধীরে ধীরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টায় মুরগি পালনে মানুষকে উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে ও স্বল্পমূল্যে প্রোটিন ডিমের ব্যবহারের সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে। হাসপাতাল, স্কুলের মিড-ডে মিল, হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যে স্বল্পমূল্যের প্রোটিনের প্রধান উৎস হয়ে ওঠে ডিম। কিন্তু বর্তমানে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বাজারে সেই ডিমই ক্রমশ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
জলপাইগুড়ির দিনবাজারে বৃহস্পতিবার ৩০টি ডিমের একটি ট্রে'র দাম পৌঁছেছে ২১০ থেকে ২১৫ টাকায়। খুচরো বাজারে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকায়। বাজারের ডিম ব্যবসায়ী রবিন সাহা বলেন, “খামার থেকে সরবরাহ কমেছে। পাইকারি বাজারেই দাম বেড়ে যাচ্ছে, ফলে খুচরো বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে।”
অন্যদিকে, স্থানীয় ক্রেতা সবীন রায় -এর আক্ষেপ, “মাছ-মাংসের দাম আগেই বেড়েছে, এখন ডিমও হিসেব করে কিনতে হচ্ছে। গরিব ও মধ্যবিত্তের জন্য এটা বড় সমস্যা।”
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, উৎপাদন হ্রাসের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ডিম ছোড়ার প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলে বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। এমনকি পচা ডিমেরও আলাদা বাজার গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সুদীপ সরকার দিন বাজার থেকে ডিম কিনতে কিনতে গিয়ে আক্ষেপের সুরে জানান পশ্চিমবঙ্গে বহু সরকার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু যেভাবে টিভির পর্দায় মানুষকে ডিম ছুড়তে দেখা যাচ্ছে এ ধরনের ঘটনা পূর্বে কখনো ঘটেনি। ডিম ছড়াছড়ি বন্ধ হলেই হয়তো কিছুটা কমবে ডিমের দাম।
রাজনৈতিক মহলের মতে, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয়— দুইয়েরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই ঘটনায়। তাদের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে মতপার্থক্য থাকলেও খাদ্যসামগ্রীকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা এত ব্যাপক ছিল না। ফলে একদিকে যখন সাধারণ মানুষ প্রোটিনের সাশ্রয়ী উৎস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য ডিমের অপচয় জনমনে প্রশ্ন তুলছে।
সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাদে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নিয়ে আজও জনমানসে আলোচনা হও। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মানুষের প্রত্যাশা— বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরুক, বন্ধ হোক ডিম নিক্ষেপের অপসংস্কৃতি, আর গরিবের পাতে ফিরুক স্বল্পমূল্যের পুষ্টিকর খাদ্য ডিম।
Comments :0