সিজিপি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন। এই তথ্যটি জানাতে দীপকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। শনিবার সকালে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, তাঁর টাইফয়েড ধরা পড়েছে। অসুস্থতার মধ্যেও তিনি আন্দোলন থেকে সরছেন না। তিনি জানান, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে টাইফয়েড ধরা পড়েছে। প্রতিদিন তাঁকে আইভি ড্রিপ নিতে হচ্ছে। শারীরিক অসুস্থতা ও চিকিৎসকদের কড়া বিধিনিষেধ সত্ত্বেও আন্দোলন থামবে না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
অভিজিৎ দীপকের মা তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে অভিজিৎ টাইফয়েডে আক্রান্ত এবং বর্তমানে স্যালাইন নিচ্ছেন। অভিজিতের মা অনিত দীপকে বলেন, ‘‘আজ সকালে আমি ইনস্টাগ্রামে দেখেছিলাম, তারপর ওকে ফোন করেছিলাম, কিন্তু ও ধরেনি। আমি রাত দেড়টায়ও ওকে ফোন করেছিলাম, আর ও বলছিল, ‘মা, আমি স্যালাইন নিচ্ছি।’ এর আগে ওর কখনও টাইফয়েড বা এই জাতীয় কিছু হয়নি। ওর কখনও জ্বরও হয়নি। ওর কী বিলাসবহুল জীবন ছিল। আজ ও এত সমস্যায় পড়েছে, এবং ওর স্বাস্থ্যের বেশ অবনতি হয়েছে।’’ অনিত দীপক বলেন, ‘‘ও নিশ্চয়ই ভাবছে যে আমি না থাকলে অনান্যরা প্রতিবাদ ছেড়ে দেবে, তাই ও এই অসুস্থ অবস্থাতেও মঞ্চে আসছে। দু-একটা কথা বলে আবার চলে যাচ্ছে। ও স্যালাইন নিচ্ছে আবার বমিও করছে। থেমে থেমে বমি শুরু হয়েছে।’’ তিনি বলেন,‘‘ সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। পড়ুয়াদের দাবি পূরণ করতেই হবে। এখন ৩৫ দিন হয়ে গেছে, আর ছেলেরা এখনও মাটিতে দাঁড়িয়ে আছে। সরকারকে কিছু একটা করতেই হবে। এখন তাদের এই বিষয়টির সমাধান করতে হবে যাতে তাঁরা শান্তিতে বাড়ি ফিরতে পারে। তা না হলে, পড়ুয়ারা এখন খুবই ক্ষুব্ধ। পুলিশের লাঠিচার্জ ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দিয়েছে।’’
দিল্লিসহ সারাদেশে সিজেপি-র আন্দোলন অব্যাহত। কংগ্রেস সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ছাত্র আন্দোলনের দাবিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করছে। ২৬ দিন পর সোনম ওয়াংচুক অনশন ভেঙেছেন এবং সিজেপি ও সরকারের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আজ বিকেলে তৃতীয় দফার আলোচনা হবে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেছেন, "ছাত্রছাত্রীদের তিনটি দাবি রয়েছে, এবং এগুলি নিয়ে কোনো আপস চলবে না। প্রথম দাবি হলো, দুর্নীতিগ্রস্ত, অযোগ্য এবং ভুল মানসিকতার শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ করা হোক। প্রধানমন্ত্রী মোদীর মন্ত্রিসভায় এমন কথাও শোনা যাচ্ছে যে, এর সমাধান হলো ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষা মন্ত্রক থেকে সরিয়ে অন্য মন্ত্রকে বদলি করে দেওয়া। এটি ভারতের ছাত্রছাত্রীদের কাছে অগ্রহণযোগ্য। এটি কারও কাছেই অগ্রহণযোগ্য। কারণ হলো, ধর্মেন্দ্র প্রধান দুর্নীতির প্রতীক এবং ভারতের যুবসমাজের ভবিষ্যতের কী অবস্থা হয়েছে তারও প্রতীক। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে এখানে-সেখানে ঠেলে দেওয়া পেছনে সরানো বা সামনে এগিয়ে দেওয়া—কোনোভাবেই কিছু হবে হবে না। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করতে হবে।"
দিল্লি পুলিশ দিল্লির যন্তর মন্তরে এফআরএস যুক্ত ক্যামেরা লাগিয়েছে। দিল্লি পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম বা এফআরএস’র সাহায্যে দিল্লি পুলিশ এখন পর্যন্ত ২,০০০ জনেরও বেশি মানুষকে চিহ্নিত করেছে। এই মানুষগুলি ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পুলিশকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছিল। ১৩০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। এই বিক্ষোভে প্রায় ৬৫ জন ছাত্র আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৫টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। যন্তর মন্তরের ভেতরে ও আশেপাশে গড়ে ১০,০০০ মানুষ উপস্থিত রয়েছে এবং সেখানে ৩,০০০ পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘‘মেট্রো বন্ধ করুন। রাস্তা বন্ধ করুন। দোকানপাট বন্ধ করুন। ইন্টারনেট বন্ধ করুন। খাবার বন্ধ করুন। নিজেদের অধিকার দাবি করা পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে সরকার এই নৃশংস পদক্ষেপ নিয়েছে।" একমাত্র যে জিনিসটা মোদীজি আটকাতে পারেননি, তা হলো প্রশ্নপত্র ফাঁস।’’
সরকারের সঙ্গে শনিবাররের বৈঠক প্রসঙ্গে সিজিপি’র জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, ‘‘ওরা আজ বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টের মধ্যে আমাদের সময় দিয়েছে। বৈঠকের স্থান এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনা খুবই স্পষ্ট। আমরা নীতিগতভাবে যে দুটি দাবিতে রাজি হয়েছি, সেগুলোকে চূড়ান্ত করার জন্য আমাদের লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিষয়ে আমাদের স্পষ্টতা প্রয়োজন—ওরা তাঁর পদত্যাগ চাইবেন কি না। আমাদের হ্যাঁ বা না-সূচক উত্তর চাই, কারণ এই বিষয়ে আলোচনার সুযোগ খুব কম।’’ রাঙ্কা আরও বলেন, ‘‘গতকালকের বৈঠকে ক্ষতিপূরণ এবং আইনি বিষয় নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। একটি নীতিগত চুক্তি হয়েছে। মূল দাবি অর্থাৎ ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধান যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে আমাদের জানাবেন, সেক্ষেত্রে এই ধরনের বৈঠক অর্থহীন। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে কাজ করব।’’ সরকারের ৪৭ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন,‘‘আমাদের অনেক খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে, কিন্তু আমরা আবারও একই কথা বলছি। চূড়ান্ত দায় শিক্ষামন্ত্রীর, কারণ সমস্ত প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের জন্য তিনি সরাসরি দায়ী। তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।’’
Abhijeet Dipke
টাইফয়েডে আক্রান্ত অভিজিৎ দীপকে
×
Comments :0