দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষ যেন প্রহর গুনছেন ২৩ এপ্রিলের জন্য। শিল্প শহর দুর্গাপুর এবং সন্নিহিত গ্রামাঞ্চল প্রস্তুত হচ্ছে ঘরে ঘরে জবাব দেবার জন্য। ভোটদানের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে গণতন্ত্র হরণকারীদের মুখের মতন জবাব দিতে হবে। ২০১৭ সালের ক্ষত দুর্গাপুর ভোলেনি। সেদিন ছিল পৌর কর্পোরেশনের নির্বাচন। তৃণমূলের সশস্ত্র বহিরাগত বাহিনী দুর্গাপুরের দখল নিয়েছিল। নাগরিক সমাজ নিজেদের ভোট সেদিন কেউ দিতে পারেনি। এমনকী যারা তৃণমূলের সমর্থক, তারাও নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন নি। সব ভোট লুট হয়ে গিয়েছিল। লুটের ভোটে মোট ৪৩টি ওয়ার্ডের সবগুলিই দখল করে নেয় তৃণমূলী দখলদাররা। পুলিশ প্রশাসন ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়। চার বছর অতিক্রান্ত হয়েছে পৌর কর্পোরেশনের মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে। আজ অবধি নির্বাচন হয়নি। প্রশাসকমন্ডলীর নামে দলীয় অনুগতদের হাতে তৃণমূল ক্ষমতা সুঁপে দিয়েছে। দুর্গাপুরের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত পঞ্চায়েত এলাকাতেও পঞ্চায়েত ভোট লুট করা হয়েছে। প্রতিরোধ গড়ে তুলে মানুষ যেখানে ভোট দিয়েছিলেন, সেখানে গণনাকেন্দ্রে ফলাফল উলটে দেওয়া হয়েছে শাসকদলের পক্ষে। এবারে বিধানসভায় বামফ্রন্ট প্রার্থীর প্রচারে গ্রাম শহরের মানুষ হেঁকে বলছেন, এই ভোটেতেই লুটেরাদের জবাব দেবো।
শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রে বামফ্রন্টের সিপিআই (এম) প্রার্থী প্রভাস সাঁইকে নিয়ে সাড়া জাগানো প্রচার সংগঠিত হলো। বামফ্রন্ট সরকার এই কেন্দ্রে রাতুরিয়া অঙ্গদপুর শিল্পতালুক গড়ে তুলেছিল। পাশেই অঙ্গদপুর গ্রাম। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর একটার পর একটা কারখানা বন্ধ হয়েছে অঙ্গদপুর শিল্পতালুকে। একটাও নতুন কারখানা হয়নি। তৃণমূলী প্রশ্রয়ে মালিকপক্ষের স্বেচ্ছাচার চরমে। তোলাবাজি, কাটমানির রমরমা কারবার। শিফ্ট কমিয়ে দিয়েছে বহু কারখানায় মালিকপক্ষ। অতিরিক্ত কাজের জন্য অতিরিক্ত মজুরি, ইএসআই, পিএফ, পরিচিতি পত্র, কাজের জায়গায় নিরাপত্তাসহ সামাজিক সুরক্ষা অবহেলিত হলেও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তৃণমূলী নিষেধাজ্ঞা। ধর্মঘট তো করাই চলবেনা।
এদিন সকাল থেকে আকাশ ছিল মেঘলা। দমকা বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টি হয়েছে। সকালের দিকে অঙ্গদপুর গ্রাম এলাকায় বামফ্রন্ট প্রার্থীকে নিয়ে প্রচার হয়। মানুষ উৎসাহের সঙ্গে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। স্পষ্ট জানালেন অনেকে, বুকে পাথর বেঁধে রয়েছি। এবার ওদের ছুঁড়ে ফেলতেই হবে।
দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাঁকসা গ্রাম পঞ্চায়েতের মলানদিঘি, গোপালপুর ও আমলাজোড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। প্রায় ৮০টা বুথ ছড়িয়ে রয়েছে গ্রামাঞ্চলে। এদিন বামফ্রন্টের সিপিআই (এম) প্রার্থী সীমান্ত চ্যাটার্জিকে নিয়ে আমলাজোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শুকনা গ্রামে প্রচারে জনজোয়ার তৈরি হয়েছিল।
Election 2026 Durgapur West
গণতন্ত্র হরণকারীদের জবাব দিতে প্রহর গুনছে দুর্গাপুর শিল্প শহর
×
Comments :0