এনওসি বা সরকারি স্বীকৃতি ছাড়াই পরিচালিত বেসরকারি স্কুলগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পথে শিক্ষা দপ্তর। জলপাইগুড়ি জেলার প্রায় ৫০০টি বেসরকারি নার্সারি, প্রাক-প্রাথমিক ও অন্যান্য স্কুলকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। স্কুল গুলির বৈধ অনুমোদন, পরিকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ বলে শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
সমগ্র শিক্ষা মিশনের রাজ্য শাখার নির্দেশ এবং গত ২২ জুলাই স্কুল শিক্ষা দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ। শিক্ষা দপ্তরের বক্তব্য, রাইট টু এডুকেশন আইন, ২০০৯ এবং পশ্চিমবঙ্গ আরটিই রুলস, ২০১২ অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি বা এনওসি ছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা করা যায় না। নিয়ম ভেঙে স্কুল চালানোর ক্ষেত্রে প্রথম দফায় এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং নির্দেশ অমান্য করে স্কুল চালু রাখলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ আগস্ট সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ শোকজের জবাব সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে। জবাব খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।
শিক্ষা দপ্তরের তরফে স্কুলগুলির কাছে বৈধ এনওসি বা স্বীকৃতির শংসাপত্র, সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা কাউন্সিলের অনুমোদন, ইউডাইস কোড ও পোর্টালের তথ্য, জমির দলিল, ভবনের নকশা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং শিশু-সুরক্ষা সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোন কোন শ্রেণি চালু রয়েছে, পড়ুয়া ও শিক্ষকের সংখ্যা এবং শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাতের তথ্যও দিতে বলা হয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, ২০১১ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বহু বেসরকারি স্কুল এনওসি-র জন্য আবেদন করেছিল এবং প্রয়োজনীয় ফিও জমা দিয়েছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে কিছু স্কুলে শিক্ষা দপ্তরের প্রতিনিধিরা পরিদর্শন করলেও দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে অনুমোদনের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি। ফলে বহু স্কুল এনওসি ছাড়াই কার্যত চলতে থাকে। এখন হঠাৎ শোকজ ও জরিমানার বিধান সামনে আসায় তৈরি হয়েছে জটিলতা।
জলপাইগুড়ির একটি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৌমেন সরকার বলেন, ‘‘এনওসি পাওয়ার জন্য বহুবার চেষ্টা করেছি। প্রয়োজনীয় তথ্যও জমা দিচ্ছি। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে শিক্ষা দপ্তর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নেবে বলে আশা করছি।’’
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল সংগঠন তৎপর হয়েছে। ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর আনএডেড স্কুলস’র প্রতিনিধিরা জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের সঙ্গে দেখা করে সময় চেয়েছেন। ‘বেসরকারি বিদ্যালয় কল্যাণ সমিতি’ এবং পশ্চিমবঙ্গ আনএডেড স্কুল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। সংগঠন গুলির বক্তব্য, নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে তাঁদের আপত্তি নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করে থাকা স্কুল গুলির বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা এবং গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলির বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখে অনুমোদন ও নথিপত্রের প্রক্রিয়া সরল করার দাবি জানানো হয়েছে।
স্কুল সংগঠনগুলির আরও বক্তব্য, সরকার যেহেতু প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র চেয়েছে, তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা জমা দেওয়া হবে। তবে আচমকা জরিমানার বোঝা চাপলে বহু ছোট স্কুল সমস্যায় পড়বে। এর সঙ্গে বহু শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর কর্মসংস্থানও যুক্ত রয়েছে। ফলে প্রশাসনের পদক্ষেপের পাশাপাশি বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের দাবিও উঠেছে।
Private Schools in Jalpaiguri
জলপাইগুড়িতে ৫০০ বেসরকারি স্কুলকে শোকজ নোটিশ শিক্ষা দপ্তরের
ফাইল ছবি
×
Comments :0