Abash yojona khragpur

৫ বছর আগে টাকা দিয়েও মেলেনি ঘর, দেওয়াল ভেঙে পরে আহত দুই

জেলা

টাকা দিয়েছিলেন ৫ বছর আগে। আজ মেলেনি ঘর। ৫ বছর আগে আবাস যোজনায় নাম থাকায় ২০ হাজার করে টাকা জমা দিয়েছিলেন টুনটুন বেহেরা, রেখা বেহেরা, মামনি বেহেরা। কিন্তু আজ অবধি সেই ঘর নির্মাণে টাকা বরাদ্দ হয়নি। এমন পরিবারের মাটির দুর্বল কুঁড়ে ঘরের দেওয়াল গতকাল রাতে ভেঙে পড়ায় মাটি চাপা পড়ে আহত হলেন দুই মহিলা। পরিবারের লোকজন মাটি সরিয়ে উদ্ধার করেন রেখা বেহেরাকে। তার বুকের ও পায়ের হাড় ভেঙে গিয়েছে। সংকটজনক অবস্থায় খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি । ঘটনাটি ঘটেছে খড়্গপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ওল্ড মালঞ্চ এলাকার শেষ প্রান্তে।

আহত মহিলার পুত্রবধূ পূজা বেহেরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "এই নিয়ে দুই বার মাটির দেওয়াল ভেঙে পড়লো। আমরা গরীব মানুষ। বহু কষ্টে ২০ হাজার টাকা জোগাড় করে একাউন্টে জমা দিয়েছিলাম। ৫ বছর পার, ঘর নির্মানের কোনও টাকা আজ অবধি পাইনি। আমরা মরে গেলে কী সরকার ঘর তৈরী করার টাকা দেবে। আমাদের জমা দেওয়া ২০ হাজার টাকার কী কোনও মূল্য নেই।"

সামান্য বৃষ্টি হলেই খড়্গপুর শহরের বেশীর ভাগ ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট এমনকি ঘরের মধ্য দিয়ে কালো কুচকুচে দূর্গন্ধ জলের স্রোত বয়ে চলে। আর সেই কারনে গরীব মানুষের মাটির কুঁড়ে ঘর গুলি দূর্বল হয়ে ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।
গত ডিসেম্বর মাসে রাজ্য সরকার পৌরসভাকে ভেঙে দিয়ে প্রসাশক বসায়। অথচ ৩৫ ওয়ার্ডের ২১ টি ওয়ার্ড তৃণমূলের দখলে। দুর্নীতি, স্বজন পোষন, গোষ্ঠী কন্দলে জেরবার খড়্গপুর পৌরসভায় উন্নয়ন স্তব্ধ হওয়ার কারনে তৃণমূল সরকার তাদের পরিচালিত পৌরসভাকেও নিয়ন্ত্রন করতে পারেনি। পরে কংগ্রেস কাউন্সিলর এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আপিল করায় পৌরসভা পুনরায় আগের মতো তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালনা শুরু করে। কিন্তু তাতেও বেহাল পরিষেবার হাত থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। মানুষের ক্ষোভ রেল নগরীকে নিয়ে। গত তিন বারের এখানে বিধায়ক বিজেপির। এবারেও দিলীপ ঘোষ জয়ী হয়েছেন। তাতেও বেহাল পরিষেবা দূর হচ্ছে না।
টুনটুন বেহেরা বলেন, "আমার মায়ের চিকিৎসা খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্চি। তার মা ও স্ত্রী পরিচারিকার কাজ করে সংসারে সাহায্য করেন। সে নিজেও শ্রমিকের কাজ করে। প্রতিদিন কাজ থাকে না।"
এদিকে বিষয়টি নিয়ে খড়গপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর পারমিতা ঘোষ বলেন,  "তৃণমূলের দলবাজি, দূর্ণীতির কারনে গরীব মানুষ বঞ্চিত। তৃণমূল ও বিজেপি ভাগ বাঁটরা করে আগেও চলেছে এখন তো বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে চলছে।

Comments :0

Login to leave a comment