Tea Workers Protest

অধিকার আদায়ে হান্টাপাড়া চা বাগানে শ্রমিকদের অনশন

জেলা

আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের হান্টাপাড়া চা বাগানে বকেয়া মজুরি, অসম্পূর্ণ বোনাস এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ের দাবিতে অনশনে বসেছেন চা শ্রমিকরা। গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই অনশন ঘিরে বাগান এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেও তাঁরা প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। নামমাত্র মজুরি, বকেয়া বেতন এবং গত বছরের বোনাসের সম্পূর্ণ অর্থ না পাওয়ায় তাঁদের আর্থিক সংকট ক্রমশ গভীর হচ্ছে। আগামী বোনাস নিয়েও এখনও কোনও স্পষ্ট খবর নেই বলে শ্রমিকদের অভিযোগ।
শ্রমিকদের বক্তব্য, তাঁদের জীবন ও ভবিষ্যৎ চা বাগানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু মজুরি না মেলায় সন্তানদের স্কুলের খরচ, পড়াশোনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভালো পোশাক পর্যন্ত সন্তানদের দিতে পারছেন না অনেক পরিবার। ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হুঁশিয়ারি, ‘‘অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত এখান থেকে পিছু হটব না। প্রয়োজনে এখানেই মরব, কিন্তু দাবি থেকে সরে যাব না।’’


শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, বাগান পরিচালনা নিয়ে নানা মহলে বিভিন্ন দাবি উঠলেও বাস্তবে শ্রমিকদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত হয়নি। অতীতেও তাঁরা আলিপুরদুয়ার জেলা কালেক্টরেট ও ডুয়ার্স কন্যার সামনে ধর্না-আন্দোলন করেছেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে একাধিকবার লিখিত আশ্বাস মিললেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে অসন্তোষ থেকেই গিয়েছে।
এদিন পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিআইটিইউ শ্রমিক নেতা বিকাশ মাহালী। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধ চা বাগান খোলা, ৫০০ টাকা মজুরি এবং পিএফ-গ্র্যাচুইটির সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার বদলের পরও চা শ্রমিকদের অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। একদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, অন্যদিকে কাজের অনিশ্চয়তা ও মজুরি বৃদ্ধির অভাব শ্রমিকদের আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে।
বিকাশ মাহালীর দাবি, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বোনাস দ্রুত পরিশোধ, পিএফ-গ্র্যাচুইটির সমস্যা সমাধান এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment